ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

রাজশাহী মেডিকেলে হামের পরই শিশুর শরীরে শনাক্ত ডেঙ্গু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে হামের পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া এটি প্রথম ডেঙ্গু রোগী।

শিশুটির নাম তাইবা। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। হামের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর গত শুক্রবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রোববার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক। অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গতকাল রাতে তিনি বলেন, একমাত্র সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে যা প্রয়োজন, তিনি তা করতে প্রস্তুত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশি নিয়ে শিশুটিকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিনের মধ্যে তার শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় এবং তাকে হামের টিকাও দেওয়া হয়।

তবে গত বুধবার আবারও জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শুক্রবার রাতে তাকে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, “শনিবার রাউন্ডে গিয়ে দেখি শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল। পরীক্ষার রিপোর্টে তার রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অনেক বেশি, কিন্তু প্লাটিলেটের পরিমাণ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। এরপর আইসিইউর ল্যাবে পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়, সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষাও করা হয়। রোববার পরীক্ষার ফলাফলে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। এটি এ মৌসুমে আমাদের হাসপাতালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী।”

তিনি আরও বলেন, “হামের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। শিশুটি নিজে যেমন লড়াই করছে, তেমনি তার বাবা-মা, চিকিৎসক ও নার্সরাও তাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী মেডিকেলে হামের পরই শিশুর শরীরে শনাক্ত ডেঙ্গু

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে হামের পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া এটি প্রথম ডেঙ্গু রোগী।

শিশুটির নাম তাইবা। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামে। হামের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর গত শুক্রবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রোববার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তার ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

শিশুটির বাবা জাহিদুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক। অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গতকাল রাতে তিনি বলেন, একমাত্র সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে যা প্রয়োজন, তিনি তা করতে প্রস্তুত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশি নিয়ে শিশুটিকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিনের মধ্যে তার শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করেন। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় এবং তাকে হামের টিকাও দেওয়া হয়।

তবে গত বুধবার আবারও জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শুক্রবার রাতে তাকে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, “শনিবার রাউন্ডে গিয়ে দেখি শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল। পরীক্ষার রিপোর্টে তার রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অনেক বেশি, কিন্তু প্লাটিলেটের পরিমাণ ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। এরপর আইসিইউর ল্যাবে পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়, সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষাও করা হয়। রোববার পরীক্ষার ফলাফলে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। এটি এ মৌসুমে আমাদের হাসপাতালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী।”

তিনি আরও বলেন, “হামের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। শিশুটি নিজে যেমন লড়াই করছে, তেমনি তার বাবা-মা, চিকিৎসক ও নার্সরাও তাকে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”