ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকে পোশাক শিল্পের মতো সুবিধা দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন হোসাফের মোয়াজ্জেম সংস্কার বাস্তবায়নে বিএনপির টালবাহানার কথা ইইউকে জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা অধিবেশন চলাকালে অসুস্থ জামায়াত এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাঁদাবাজ ও দূর্নীতিবিরোধী কার্ড চান আসিফ মাহমুদ সংকট সমাধানে প্রয়োজন কার্যকরী পদক্ষেপ: ড. মাসুদ তারেক রহমানের সফল নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়েছে : সেতুমন্ত্রী পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরো কাছে বাংলাদেশ জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে বাঁচল মেয়ে

শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি ‘জুলাই ঐক্যের’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গ অনলাইন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী, ডাকসুর দুই সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ প্ল্যাটফর্ম। রোববার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুন্সি কবি বুরহান মাহমুদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আরেক সংগঠক ফাহিম ফারুকী, রিয়াদুল ইসলাম জুবাহসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নামধারী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত হামলা চালায়।

লিখিত বক্তব্যে বুরহান মাহমুদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় জীবন বাজি রেখে রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের ওপরই এখন হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়, যা নজিরবিহীন।

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের ত্যাগের কারণে আজ রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারছে, সেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা প্রমাণ করে ছাত্রদল একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ১৬ বছরে ছাত্রলীগ যা করেনি, ছাত্রদল ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মাথায় থানার ভেতরে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এক ডাকসু প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার জন্য শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করে। পরে থানার ভেতরে ঢোকার পরপরই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

জুলাই ঐক্যের নেতারা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো হামলাকারীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বুরহান মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে উল্টো সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে মব তৈরি করেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম ফারুকী বলেন, হামলার ঘটনায় মুসাদ্দেক আলী ও এবি জুবায়ের গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাদের ওপর একাধিকবার আক্রমণ করা হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি ‘জুলাই ঐক্যের’

আপডেট সময় : ০৩:১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রসঙ্গ অনলাইন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী, ডাকসুর দুই সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ প্ল্যাটফর্ম। রোববার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুন্সি কবি বুরহান মাহমুদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আরেক সংগঠক ফাহিম ফারুকী, রিয়াদুল ইসলাম জুবাহসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নামধারী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত হামলা চালায়।

লিখিত বক্তব্যে বুরহান মাহমুদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় জীবন বাজি রেখে রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের ওপরই এখন হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়, যা নজিরবিহীন।

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের ত্যাগের কারণে আজ রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারছে, সেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা প্রমাণ করে ছাত্রদল একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ১৬ বছরে ছাত্রলীগ যা করেনি, ছাত্রদল ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মাথায় থানার ভেতরে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এক ডাকসু প্রতিনিধিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার জন্য শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করে। পরে থানার ভেতরে ঢোকার পরপরই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

জুলাই ঐক্যের নেতারা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো হামলাকারীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বুরহান মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে উল্টো সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে মব তৈরি করেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম ফারুকী বলেন, হামলার ঘটনায় মুসাদ্দেক আলী ও এবি জুবায়ের গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাদের ওপর একাধিকবার আক্রমণ করা হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।