ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা রাজশাহী কলেজে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অত্যন্ত সুকৌশলে ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়েছে : অলি আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কওমি মাদরাসার বাজেট ইস্যু-বিএনপি কোনো কওমের জন্য কাজ করে না : নিলোফার চৌধুরী মনি বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের কারাদণ্ড বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে জামায়াত: সেলিম উদ্দিন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুবাই ভিসা, ৪ হাজারে মিলছে থাকার হোটেল মামুনুল হককে নিয়ে আলোচনা: নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে জুলাই হত্যাকে উদযাপন করা অধ্যাপিকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
প্রসঙ্গ অনলাইন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যার বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিতর্কের মুখে পড়েন একই বিভাগের শিক্ষিকা অধ্যাপক জেবউন্নেসা।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিক্রিয়ায় জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘অধ্যাপক জেবউন্নেসা, আপনি জুলাই হামলার মদদদাতা। আপনি সেই মানুষ, যিনি জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে সেলিব্রেট করেছিলেন। আপনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের গণরোষের মুখে পড়েছেন, আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীরা আপনাকে বর্জন করেছেন। তারপরও আপনি কীভাবে পাবলিক প্রোটেস্টে আসেন?’

একই পোস্টে তিনি আরও লিখেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেয়, রক্ত দেখে আনন্দ পায়, সে তো শারমিনের ঘটনায় ব্যথিত হওয়ার কথা না। কারণ এই শারমিনের মতোই শিক্ষার্থীরা তখন আহত হয়েছিল। সুতরাং আপনি শারমিনের হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে মায়াকান্নার মাধ্যমে নিজের রাজনীতি করা বাদ দিন।’

পোস্টের শেষ অংশে তিনি লিখেন, ‘শারমিনের নিহত হওয়া আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তুলছি, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে। আপনি নিহত শারমিনের ঘটনাকে ক্যাপিটালাইজ করে ক্যাম্পাসে নরমাল হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এসব করলে বিগত সময়ের মতো আবার গণরোষে পড়বেন।’

শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মানববন্ধন শেষে আমরা বিভাগের চেয়ারম্যানকে আল্টিমেটাম জানিয়েছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, অধ্যাপক জেবউন্নেসার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের কোনো ধরনের কার্যক্রমে যেন তাঁকে সম্পৃক্ত করা না হয়। অন্যথায় কোনো রকম জনরোষের ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ভাইরাল হওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বার্তায় জেবউন্নেসার একাধিক বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি সরাসরি পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে জুলাই হত্যাকে উদযাপন করা অধ্যাপিকা

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
প্রসঙ্গ অনলাইন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যার বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিতর্কের মুখে পড়েন একই বিভাগের শিক্ষিকা অধ্যাপক জেবউন্নেসা।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিক্রিয়ায় জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘অধ্যাপক জেবউন্নেসা, আপনি জুলাই হামলার মদদদাতা। আপনি সেই মানুষ, যিনি জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে সেলিব্রেট করেছিলেন। আপনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের গণরোষের মুখে পড়েছেন, আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীরা আপনাকে বর্জন করেছেন। তারপরও আপনি কীভাবে পাবলিক প্রোটেস্টে আসেন?’

একই পোস্টে তিনি আরও লিখেন, ‘যে ব্যক্তি সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেয়, রক্ত দেখে আনন্দ পায়, সে তো শারমিনের ঘটনায় ব্যথিত হওয়ার কথা না। কারণ এই শারমিনের মতোই শিক্ষার্থীরা তখন আহত হয়েছিল। সুতরাং আপনি শারমিনের হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে মায়াকান্নার মাধ্যমে নিজের রাজনীতি করা বাদ দিন।’

পোস্টের শেষ অংশে তিনি লিখেন, ‘শারমিনের নিহত হওয়া আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তুলছি, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে। আপনি নিহত শারমিনের ঘটনাকে ক্যাপিটালাইজ করে ক্যাম্পাসে নরমাল হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এসব করলে বিগত সময়ের মতো আবার গণরোষে পড়বেন।’

শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মানববন্ধন শেষে আমরা বিভাগের চেয়ারম্যানকে আল্টিমেটাম জানিয়েছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, অধ্যাপক জেবউন্নেসার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের কোনো ধরনের কার্যক্রমে যেন তাঁকে সম্পৃক্ত করা না হয়। অন্যথায় কোনো রকম জনরোষের ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ভাইরাল হওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বার্তায় জেবউন্নেসার একাধিক বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি সরাসরি পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়।