উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ইতালি সফর শেষে আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। চূড়ান্ত জুলাই সনদে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কিছু বলা নেই। সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ না দেখে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনসহ আরও পাঁচটি ইসলামপন্থী দলও স্বাক্ষর করবে না বলে সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সনদে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) থাকা বিষয়গুলো উল্লেখ থাকায় স্বাক্ষর করবে না বাংলাদেশ জাসদ, সিপিবি, বাসদ, বাসদ-মাকর্সবাদী। অন্যদিকে স্বাক্ষর না করার বিষয়ে ভাবছে গণফোরামও। এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক দলও স্বাক্ষর না করার পক্ষে বলে জানা গেছে।
জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে জামায়াতের দলীয় ফোরামে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জানার পরেই স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ কমিশন তো চূড়ান্ত সনদের সঙ্গে বাস্তবায়নের সুপারিশ দেয়নি— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জানার পরেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তার আগে নয়।’
জুলাই সনদের অনুলিপি পাঠানোর পর মঙ্গলবার রাতে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয় বলে জানা গেছে। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাস্তবায়ন পদ্ধতি মীমাংসা না করলে জুলাই সনদ নব্বইয়ের দশকের তিন জোটের রূপরেখার মতো ব্যর্থ হবে। ‘সংবিধান আদেশ’ জারির মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া আগানো না হলে এনসিপি সনদে সই করবে না বলে ওই বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনসিপি বলছে, তারা মনে করে, এর আগে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের সময় তারা ছাড় দিয়েছে। এবার আর ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা সংস্কার বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে নতুন করে পুরো আলোচনা শুরু করার পক্ষে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জুলাই সনদে বাস্তবায়ন পদ্ধতি উল্লেখ নেই। কমিশনের কাছে আমরা বলেছি, সেটা না থাকলে কীভাবে স্বাক্ষর করব? কী নিশ্চয়তা আছে ওই পদ্ধতিতে এটা বাস্তবায়ন হবে? স্বাক্ষরের বিষয়ে দলীয় ফোরামে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেব।’