ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যাঁরা আদালত ন্যায়বিচারের নিরাপদস্থল হলে সমাজ থেকে মব ভায়োলেন্স দূর হবে: প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিতে ইরানকে ফের অনুরোধ আলোচনায় থেকেও বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না যারা বিএনপির নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন আ.লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করায় সরকারকে সাধুবাদ মালিক সমিতির জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৫ মে

খিলাফত শূন্যতা ও পথভ্রষ্টতার যুগে ভাষা ভিত্তিক , এলাকা ভিত্তিক কিংবা গোষ্টী ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূইয়া: পাঠক , খিলাফতের পতনের পর মুসলমানরা যখন রাজনৈতিকভাবে আল্লাহর সার্বভেীমত্বকে অস্বীকার করা শুরু করল , তখনই তারা খিলাফতের অবর্তমানে মুসলমানদের ঐক্য, মুসলমানদের অস্তিত্ব ও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার অবলম্বন মুসলিম জাতীয়তাবাদ তথা প্যান ইসলামিজম এর ধারনা হতে দূরে সরে আসে । খিলাফতের অবর্তমানে আল্লাহর সার্বভেীমত্ব এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য । খিলাফতের পতনের পর যারা মুসলিম জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে আছাবিয়্যাত এর ধারক বাহক তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হল ভাষাভিত্তিক আছাবিয়্যাত তথা ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। এই ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি।

এই ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদীরা মুসলমানদেরকে গোলামের জাতীতে রূপান্তর করার জন্য দায়ী। বিগত শতাব্দীতে মুসলিম নামধারী এই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের হাতে লক্ষ লক্ষ মুসলমান শহীদ হয়েছে । ১৯১৭ সালে আল আকাবার যুদ্ধের পর আরব জাতীয়তাবাদীরা অগনিত তুর্কি নীরিহ নারী পুরুষ ও অসহায় মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে, অথচ চারশত বছর পূর্বে ডাচদের কবল থেকে তুর্কি মুসলমানরাই আরবদের উদ্ধার করেছিল ।

আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ উর্দুভাষী মুসলমানদের হত্যা করেছে, অথচ এই ভূখণ্ডে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য উর্দু ভাষী মুসলমানদের অবদান বাংলা ভাষা ভাষী মুসলমানদের অপেক্ষা বেশি। আপনি উর্দু ভাষী নবাব সলিমুল্লাহর সমকক্ষ একজন মুসলিম নেতা খুঁজে পাবেন না, উর্দূভাষী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তূলনা করার মত একজন নেতা বের করেন। উর্দু ভাষী শেরে বাংলার ন্যায় একজন নেতা আপনি পাবেন না, উল্লেখ্য যে শেরে বাংলা দাদা ছিলেন পাটনার উর্দু ভাষী মুসলিম এবং শেরে বাংলা নিজে কলকাতা রিপন কলেজের ফার্সি ভাষার পরীক্ষক ছিলেন।

রাষ্ট্র বা রাজ্য গঠনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বন্ধনের কাছ থেকে বেরিয়ে ভাষা এবং আঞ্চলিকতায় রুপ লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর মুসলমানদের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা যায় যে, পাকিস্তান ব্যতিত সব মুসলিম রাষ্ট্র ভাষা কিংবা আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে স্বাধীন হয় কিংবা গঠিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর মুসলিম এলাকাসমুহ একের পর এক স্বাধীনতা লাভ করতে শুরু করে । এই স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল এলাকা ভিত্তিক কিংবা গোত্রীয় শাসনের অধীন স্বাধীনতা । একমাত্র পাকিস্তানই শুধুমাত্র মুসলিম জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে স্বাধীনতা লাভ করে । কিন্তুু উভয় পাকিস্তানে যখন মুসলিম জাতীয়তাবাদের ধারনা বিলুপ্ত হয়ে আল্লাহর স্বার্বভেীমত্বে অবিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমুহ প্রভাবশালী হয়ে উঠে , তখন এর পতন ঘটে ।

যা হোক , মুসলিম জাতীয়তাবাদ ব্যতিত ভাষা ভিত্তিক, এলাকা ভিত্তিক, গোত্র ভিত্তিক সহ যে কোন ধরনের জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের জন্য আত্বঘাতী । যেমন এই আত্বঘাতী জাতীয়তাবাদের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর বায়তুল মোকাদ্দাস ইহুদীদের পদানত হয় । এই আত্বঘাতী জাতীয়তাবাদের ফলে আরব বিশ্বে বিভক্তি । ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের সব অর্জন শেষ করে দিয়েছে। উসমানীয় খেলাফতের পতন হল ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কারনে। পাকিস্তানের পতন হল ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কারনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খিলাফত শূন্যতা ও পথভ্রষ্টতার যুগে ভাষা ভিত্তিক , এলাকা ভিত্তিক কিংবা গোষ্টী ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ মোস্তফা জামাল ভূইয়া: পাঠক , খিলাফতের পতনের পর মুসলমানরা যখন রাজনৈতিকভাবে আল্লাহর সার্বভেীমত্বকে অস্বীকার করা শুরু করল , তখনই তারা খিলাফতের অবর্তমানে মুসলমানদের ঐক্য, মুসলমানদের অস্তিত্ব ও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার অবলম্বন মুসলিম জাতীয়তাবাদ তথা প্যান ইসলামিজম এর ধারনা হতে দূরে সরে আসে । খিলাফতের অবর্তমানে আল্লাহর সার্বভেীমত্ব এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য । খিলাফতের পতনের পর যারা মুসলিম জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে আছাবিয়্যাত এর ধারক বাহক তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হল ভাষাভিত্তিক আছাবিয়্যাত তথা ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। এই ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি।

এই ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদীরা মুসলমানদেরকে গোলামের জাতীতে রূপান্তর করার জন্য দায়ী। বিগত শতাব্দীতে মুসলিম নামধারী এই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের হাতে লক্ষ লক্ষ মুসলমান শহীদ হয়েছে । ১৯১৭ সালে আল আকাবার যুদ্ধের পর আরব জাতীয়তাবাদীরা অগনিত তুর্কি নীরিহ নারী পুরুষ ও অসহায় মুসলমানদেরকে হত্যা করেছে, অথচ চারশত বছর পূর্বে ডাচদের কবল থেকে তুর্কি মুসলমানরাই আরবদের উদ্ধার করেছিল ।

আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ উর্দুভাষী মুসলমানদের হত্যা করেছে, অথচ এই ভূখণ্ডে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য উর্দু ভাষী মুসলমানদের অবদান বাংলা ভাষা ভাষী মুসলমানদের অপেক্ষা বেশি। আপনি উর্দু ভাষী নবাব সলিমুল্লাহর সমকক্ষ একজন মুসলিম নেতা খুঁজে পাবেন না, উর্দূভাষী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তূলনা করার মত একজন নেতা বের করেন। উর্দু ভাষী শেরে বাংলার ন্যায় একজন নেতা আপনি পাবেন না, উল্লেখ্য যে শেরে বাংলা দাদা ছিলেন পাটনার উর্দু ভাষী মুসলিম এবং শেরে বাংলা নিজে কলকাতা রিপন কলেজের ফার্সি ভাষার পরীক্ষক ছিলেন।

রাষ্ট্র বা রাজ্য গঠনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বন্ধনের কাছ থেকে বেরিয়ে ভাষা এবং আঞ্চলিকতায় রুপ লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর মুসলমানদের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা যায় যে, পাকিস্তান ব্যতিত সব মুসলিম রাষ্ট্র ভাষা কিংবা আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে স্বাধীন হয় কিংবা গঠিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর মুসলিম এলাকাসমুহ একের পর এক স্বাধীনতা লাভ করতে শুরু করে । এই স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল এলাকা ভিত্তিক কিংবা গোত্রীয় শাসনের অধীন স্বাধীনতা । একমাত্র পাকিস্তানই শুধুমাত্র মুসলিম জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে স্বাধীনতা লাভ করে । কিন্তুু উভয় পাকিস্তানে যখন মুসলিম জাতীয়তাবাদের ধারনা বিলুপ্ত হয়ে আল্লাহর স্বার্বভেীমত্বে অবিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমুহ প্রভাবশালী হয়ে উঠে , তখন এর পতন ঘটে ।

যা হোক , মুসলিম জাতীয়তাবাদ ব্যতিত ভাষা ভিত্তিক, এলাকা ভিত্তিক, গোত্র ভিত্তিক সহ যে কোন ধরনের জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের জন্য আত্বঘাতী । যেমন এই আত্বঘাতী জাতীয়তাবাদের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর বায়তুল মোকাদ্দাস ইহুদীদের পদানত হয় । এই আত্বঘাতী জাতীয়তাবাদের ফলে আরব বিশ্বে বিভক্তি । ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ মুসলমানদের সব অর্জন শেষ করে দিয়েছে। উসমানীয় খেলাফতের পতন হল ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কারনে। পাকিস্তানের পতন হল ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কারনে।