প্রফেসর ড. শেখ আকরাম আলীর প্রবন্ধ থেকে: সম্প্রীতির রাজনীতি—একটি জাতীয় প্রয়োজন
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রতিহিংসা এবং বিভাজনের ইতিহাস বয়ে চলেছে। দলীয় আনুগত্য ও ক্ষমতার লোভে বিভক্ত রাজনীতি জনগণের প্রকৃত কল্যাণ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, প্রফেসর ড. শেখ আকরাম আলীর “সম্প্রীতির রাজনীতি” শিরোনামে প্রকাশিত কলামটি আমাদের একটি নতুন আলো দেখায়—এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ধারণা নয়, বরং জাতীয় পুনর্জাগরণের রূপরেখা।
১. সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা: গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত: প্রকৃত গণতন্ত্রে বিরোধী মতকে দমন করা হয় না, বরং সম্মানের সঙ্গে স্থান দেওয়া হয়। সম্প্রীতির রাজনীতি সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকবে এবং সংলাপ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের প্রচেষ্টা চলবে। গণতন্ত্র তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কেবল ব্যালটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের মনের ভেতরেও স্থান করে নেয়।
২. সংঘাত নয়, সংলাপ—রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপান্তর প্রয়োজন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিদ্যমান শত্রুতা ও প্রতিহিংসার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আলোচনার ভিত্তিতে মতবিনিময় এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমতের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। ক্ষমতা দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও ঐকমত্যই জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে।
৩. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সামনে সুবর্ণ সুযোগ: বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক বিভাজনের চক্র ভেঙে সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি জাতীয় ঐক্যের সেতু নির্মাণ করতে পারে। তারা চাইলে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক চর্চার সূচনা করতে পারে, যেখানে সব মত-পথের মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে অংশ নিতে পারবেন।
৪. সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও তরুণদের ভূমিকা: সম্প্রীতির রাজনীতি কেবল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সার্বজনীন দায়িত্ব। সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ এবং তরুণদের এই পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে হবে। সামাজিক সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণই সম্প্রীতির বীজ বপনের সহায়ক শক্তি হতে পারে।
৫. উপসংহার: রাজনীতি যদি হয় জাতি গঠনের মাধ্যম, তবে সম্প্রীতির রাজনীতি তার নৈতিক ভিত্তি। ভিন্নমতকে শত্রু না ভেবে সম্পদ হিসেবে দেখার যে আহ্বান প্রফেসর ড. আকরাম আলী জানিয়েছেন, তা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথনির্দেশনা হওয়া উচিত।
আমরা আশা করি, বাংলাদেশ নতুন করে এক রাজনৈতিক ধারায় পদার্পণ করবে—যেখানে প্রতিপক্ষ থাকবে, কিন্তু শত্রু থাকবে না; মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সহিংসতা থাকবে না। সম্প্রীতির রাজনীতিই আমাদের টেকসই গণতন্ত্র, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ।





















