বিলজোয়ানা ও বিলকুমারী প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা দাবিতে চিত্রাংন ও মতবিনময় অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
বিলজোয়ানা ও বিলকুমারী প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা দাবিতে চিত্রাংন ও মতবিনময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।২১ মে বুধবার রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোকুল মথুরা গ্রামে খরা, জল-জীবন ও প্রাণবৈচিত্র্য ও আমাদের বিলাঞ্চলের টেকসই ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এই চিত্রাঙ্কন ও মতবিনিময় হয়।
বিলজোয়ানা-বিলকুমারী প্রাণবৈচিত্র্য উৎসব আগামীকাল ২২ মে আন্তর্জাতিক প্রাণচিত্র্য দিবস ২০২৫। দিবসকের কেন্দ্র করে রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোকুল-মোথুরা গ্রামের বিলপাড়ে বারসিক(বাংলাদেশ রির্সোস সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) ,সবুজ সংহতি ও গোকুল-মোথুরা যুব সংগঠনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি হয়। স্থানীয় জনগোষ্টীর সাথে বিগত সময় থেকে চলমান কাযক্রমের ধারাবাহিক কাজের অংশ হিসেবে বিলজোয়ানা-বিলকুমারি প্রাণবৈচিত্র্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।বিলজোয়ানা-বিলকুমারির স্থানীয় প্রাণবৈচিত্র্য, মানুষের জীবনধারা, এবং জলাভূমির সম্পর্ককে তুলে ধরবে। একই সাথে বিলের প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা ও জনসচেনতাসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রাখে।
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণ প্রাচুর্যময় অঞ্চল হলো রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলজোয়ানা-বিলকুমারি। বিল দুটির একত্রে আয়তন প্রায় ৩৮৭ একর। বিলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে শিবনদ। এই বিলাঞ্চল শুধু মাছ বা পাখির আবাস নয়, বরং হাজারো প্রাণবৈচিত্র্যে এক সমৃদ্ধ কেন্দ্র।
প্রতি বছর বর্ষাকালে বিলগুলো পানিতে থৈ থৈ করে এবং শুষ্ক মৌসুমে কিছু অংশ হয়ে ওঠে কৃষিকাজের মাঠ। এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা সরাসরি এই বিল ভিত্তিক বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বিলজোয়ানিকে বদেশের প্রথম “জলাভূমি-নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য” ঘোষণা করেছে। নিকট অতীতের প্রাণ প্রাচুর্যময় বিলজোয়ানা-বিলকুমারির জৌলুস দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। বিলকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন জীবীকা এবং একই সাথে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য কমে যাওয়ার কারনে এখন নানাভাবে পরিবেশও হুমকির মধ্যে। বিলের চারিপাশে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার, দখল দুষণ, পাখি শিকারসহ নানা কার্যক্রমের কারনে জলাভূমি-নির্ভর প্রাণবৈচিত্র্য কমে গেছে। অন্যদিকে বিলকে কেন্দ্র করে মৎসজীবীদের পেশাও সংকটের মুখে।
বিলকুমারীর বিলের প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে সকাল দশটা থেকে এগারো টা পর্যন্ত গোকুল মোথুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০জন শিক্ষার্থী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন। সেখান থেকে ৫ম শ্রেনীর কুমারী তিথী সূত্রধর ১ম, সুরাইয়া খাতুন ২য় ও তৃতীয় শ্রেনীর মোহনা সরকার ৩য় স্থান অধিকার করেন।
তিথী সূত্রধর ৫ম শ্রেণীতে পাড়াশো করে সে বিলজোয়ানা-বিলকুমারী বিলের প্রাণ-প্রকৃতির উপর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে প্রথম হয়।
তিথী প্রাণবৈচিত্র্য মেলার এক পাশে বিলজোয়ানা-বিলকুমারীর জলজ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য দিয়ে সাজোনো স্টলে একটি জলজ গাছ নিয়ে বলছে এটা কি গাছ এই স্টলের মালিক কবি আফাজ উদ্দিন কবিরাজ । তিনি কবিতার সুরে গাছের নাম বলে দিলেন এটা সিঙ্গার গাছ। এই গাছের ফল খাওয়া যায়। এমন অনেক বৈচিত্র্যময় জলজ প্রাণ নিয়ে মেলা প্রাঙ্গন সাজানো ছিলো সাথে ছিলো রঙ্গিন সব ফেস্টুণে বিলজোয়ানা-বিলকুমারী রক্ষা বিভিন্ন স্লোগান। সাথে ছিলো জেলে সম্প্রদায়ের মাছ ধরার বিভিন্ন দেশীয় উপকরের স্টল। যা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন গোকুল-মোথুরা গ্রামের কৃষক-জেলে,নারী,প্রবীন ও নতুন প্রজন্মের শিক্ষাথী। উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে নদী গবেষক ও সবুজ সংহতি সংগঠনের আহব্বায়ক মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন“ শিব নদে বাঁধ দেওয়ার ফলে বিলজোয়ানা-বিলকুমারী আস্তে আস্তে জলহীন হতে থাকে। যার ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। অনেক জলজ প্রাণ বিলুপ্তি হয়েছে। তিনি বিলজোয়ানা-বিলকুমারী খনন করা দাবি জানান। বন্যপ্রানী সংরক্ষক বিভাগের পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর কবির বলেন“সকল প্রাণ সংরক্ষন করেই আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রাণ বৈচিত্র্য সংরক্ষন হলেই আমাদের প্রকৃতি সুরক্ষা হবে এ বিষয়ে জনগোষ্টিকে সচেতনতায় তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানের মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শহিদুল ইসলাম ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কর্মসূচি কর্মকর্তা অমৃত সরকার।
গ্রামের প্রবীন কবি আফাজ উদ্দিন কবিরাজ বিলের বৈচিত্র্য নিয়ে কবিতা পাঠ করে শোনান। বিলজোয়ানা-বিলকুমারী রক্ষায় গোকুল-মোথুরা জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জেলে সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান ৫টি দাবি উপস্থাপন করেন।১/শিব নদের বাধ অপসারন করে পানির প্রবাহ নিশ্চিৎ করা।
২/বিল দখল মুক্ত করা ও বিলের জমি নির্ধারন করে সীমানা পিলার দেওয়া।
৩/শিব নদ ও বিলজোয়না-বিলকুমারী খনন করে সারা বছর পানি সংরক্ষন।
৪/বিলের প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষন করতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করা।৫/বিলে মাছের প্রজননের সময় যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকবে তখন বিল নির্ভর জনগোষ্টির জন্য সরকারী বরাদ্দ চালু করা।

























