নবাই বটতলা মিশনে মা মারিয়ার তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নবাই বটতলা মিশনে মা মারিয়ার তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় খ্রীষ্টভক্তদের নিয়ে শোভাযাত্রা , আরাধনা এবং পরে সাড়ে ৯টায় পর্বীয় খ্রীষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে খ্রীষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ জেমস রমেন বৈরাগী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জেভার্স রোজারিও, পাল-পুরোহিত ফাদার স্বপন পিউরিফিকেশন সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফাদার, সিস্টার ও খ্রীষ্টবিশ্বাসীগণ।
প্রতিবছর খ্রীষ্টবিশ্বাসীগণ ১৬ জানুয়ারি এখানে আসেন এবং তাদের মানত করেন। যেখানে তারা তাদের খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস নিয়ে মা মারিয়ার চরণে আশীর্বাদ যাচনা করেন এবং তার ফল পান। তীর্থে আসা খ্রীষ্ট বিশ্বাসী সবিতা টুডু নবাই বটতলা রক্ষাকারিণী মা মারীয়ার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস প্রকাশ করেন বলেন, মা মারীয়াকে আমি আমার মা হিসেবে গ্রহণ করি, তিনি সর্বদাই আমার বিপদে-আপদে পাশে আছেন এবং রক্ষা করে চলেছেন। আমার বিবাহের ৮বছর পরে ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি যে সন্তান পেয়েছি তাও মায়ের আশির্বাদেই পেয়েছি বলেই আমি বিশ্বাস করি। কারণ, ৮বছর যাবৎ যখন আমাদের কোন সন্তান হচ্ছিল না তখন রক্ষাকারিণী মায়ের কাছে এসে মানত করেছিলাম এবং আমি আমার সন্তানকে লাভ করি। আমি জানি ও বিশ্বাস করি যে, রক্ষাকারিণী মা মারীয়া সর্বদাই আমার সঙ্গে আছেন এবং আমার যে কোন প্রয়োজনে মা আমাকে সাহায্য করবেন, পথ দেখাবেন এবং আমাকে সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করবেন।
রাজশাহী কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক ডেভিড হেম্ব্রম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই মাটিতেই আমার জন্ম এবং আজ আমার সৌভাগ্য হয়েছে এখানে এসে মা মারীয়ার তীর্থ উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। আজ মনে পড়ছে সেদিনের কথা, যেদিন পাক্ সেনারা নবাই বটতলা গির্জায় আক্রমণ করতে এসেছিল; আমি বয়সে ছোট হলেও সেদিন আমি আমাদের গ্রামের লোকদের সঙ্গে সমবেত হয়ে রক্ষাকারিণী মা মারীয়ার কাছে প্রার্থনা করে পাক্ সেনাদের কাছ থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। সেই দিনের কথা মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে।
প্রসঙ্গত, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনী এই গ্রামে প্রবেশ করে। তখন খ্রীষ্ট ধর্মের অনুসারীরা মিশনে মা মারিয়ার প্রতিকৃতির কাছে গিয়ে প্রার্থনা করেন ও সাহায্য চান। তাদের বিশ্বাসের ফলে আশ্চর্যজনকভাবে সেদিন মা মারিয়ার মধ্যস্থতায় পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে গোটা গ্রাম রক্ষা পান। এই বিশ্বাস থেকে প্রতি বছর ১৬ জানুয়ারি দিনটি স্মরণ করে আসছেন খ্রীষ্টভক্তগণ।
প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

























