ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহীতে দুই আসনে বিএনপির বাধা বিদ্রোহী, চারটিতে জামায়াত ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী, জানালেন ইশরাক খালি থাকা ৪৭ আসন কীভাবে বণ্টন হবে, জানাল ১০ দলীয় জোট জকসুর মতো শাকসুতেও ছাত্রদলকে হেয় করতে ভূমিকা রাখছে ইসি: ছাত্রদল সভাপতির দাবি ছাত্র-জনতার ওপর নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৬৭৪৮ টি এপিসি থেকে ফেলে ইয়ামিনকে হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে : মির্জা আব্বাস

তানোরে টানা বর্ষনে বন্যায় ডুবেছে আমন ধান,হতাশ কৃষক

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


টানা ভারী বর্ষনের কারনে বন্যায় রাজশাহীর তানোরে ডুবতেই আছে কৃষকদের রক্তঘামের ফসল রোপা আমন ধান। প্রায় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। যার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়ে জনসাধারণ।

টানা বৃষ্টির কারনে উজান থেকে আসা পানির ঢলে গ্রামীন রাস্তা ঘাট ও গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে উপজেলার চান্দুড়িয়া, কামারগা, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় রোপা আমন ধান ডুবেছে, ডুবতেই আছে। তবে বৃষ্টি কমার কোন সম্ভব না দেখা যাচ্ছে না। ফলে উপজেলার জনসাধারণের একমাত্র উপার্জনের উপায় রোপা আমন ধান ডুবতেই আছে। একারনে হতাশায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের।

জানা গেছে, রোপা আমন রোপনের সময় বৃষ্টির পানির দেখা ছিল না। আষাঢ়, শ্রামন ও ভাদ্র মাসেও এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে তেমন বৃষ্টি না হলে প্রায় ৮/১০ দিন ধরে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হতেই আছে । সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয় বুধবার রাত প্রায় ৯ টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। এবৃষ্টিতেই বিলকুমারী বিলের পানি বাড়তেই আছে। শুধু তাই না উজান থেকে নামতেই আছে পানির স্রোত। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই থইথই করছে পানি। প্রতিটি ব্রীজের মুখ দিয়ে নামতেই আছে স্রোত।

কৃষকরা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টি থামলেও আকাশে প্রচন্ড মেঘ। হয়তো রাত থেকেই আবার শুরু হবে পানি। যে পরিমান পানি হয়েছে বছরের মধ্যে এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। নিচের জমিগুলো ডুবে যাবে। রোপা আমনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে যা আমাদের সর্বনাশ। শুধু রোপা আমনের ক্ষতি না পুকুরের মাছ বের হয়েছে প্রচুর পরিমানে। টানা বৃষ্টির কারনে সবজি খেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামারগাঁ শ্রীখণ্ডা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, যে হারে পানি বাড়তে শুরু করেছে তাতে করে এই ইউপির রোপা আমনের ফলন পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে ইউপির ১৫/২০% জমির ধান ডুবে গেছে। আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে এপরিমান বেড়ে কয়েকগুণ হবে। কারন আরো কয়েকদিন টানা বর্ষন হবে বলে আবহাওয়া অফিস বলছে। ধান ডুবার সঠিক হিসেব নিতে হলে দু তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। তবে কলমা ইউপির আজিজপুর, চন্দনকোঠা, কুজিশহর সহ ওই ইউপির ধান ডুবার কোন তথ্য দিতে পারেন নি কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি। অবশ্য বৃষ্টির পানি একেবারে থেমে গেলে এর সঠিক হিসেব পাওয়া যাবে। যে সব জমি ডুবেছে এবং পানি ঢুকেছে সে সব জমি থেকে তিন চার দিনের মধ্যে পানি বের হলে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় পার হলে ধান হবে না।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে টানা বর্ষনে বন্যায় ডুবেছে আমন ধান,হতাশ কৃষক

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


টানা ভারী বর্ষনের কারনে বন্যায় রাজশাহীর তানোরে ডুবতেই আছে কৃষকদের রক্তঘামের ফসল রোপা আমন ধান। প্রায় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। যার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়ে জনসাধারণ।

টানা বৃষ্টির কারনে উজান থেকে আসা পানির ঢলে গ্রামীন রাস্তা ঘাট ও গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে উপজেলার চান্দুড়িয়া, কামারগা, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় রোপা আমন ধান ডুবেছে, ডুবতেই আছে। তবে বৃষ্টি কমার কোন সম্ভব না দেখা যাচ্ছে না। ফলে উপজেলার জনসাধারণের একমাত্র উপার্জনের উপায় রোপা আমন ধান ডুবতেই আছে। একারনে হতাশায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের।

জানা গেছে, রোপা আমন রোপনের সময় বৃষ্টির পানির দেখা ছিল না। আষাঢ়, শ্রামন ও ভাদ্র মাসেও এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে তেমন বৃষ্টি না হলে প্রায় ৮/১০ দিন ধরে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হতেই আছে । সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয় বুধবার রাত প্রায় ৯ টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় তিনটা পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষন হয়েছে। এবৃষ্টিতেই বিলকুমারী বিলের পানি বাড়তেই আছে। শুধু তাই না উজান থেকে নামতেই আছে পানির স্রোত। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই থইথই করছে পানি। প্রতিটি ব্রীজের মুখ দিয়ে নামতেই আছে স্রোত।

কৃষকরা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টি থামলেও আকাশে প্রচন্ড মেঘ। হয়তো রাত থেকেই আবার শুরু হবে পানি। যে পরিমান পানি হয়েছে বছরের মধ্যে এত পরিমান বৃষ্টি হয়নি। নিচের জমিগুলো ডুবে যাবে। রোপা আমনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে যা আমাদের সর্বনাশ। শুধু রোপা আমনের ক্ষতি না পুকুরের মাছ বের হয়েছে প্রচুর পরিমানে। টানা বৃষ্টির কারনে সবজি খেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামারগাঁ শ্রীখণ্ডা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, যে হারে পানি বাড়তে শুরু করেছে তাতে করে এই ইউপির রোপা আমনের ফলন পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। বর্তমানে ইউপির ১৫/২০% জমির ধান ডুবে গেছে। আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে এপরিমান বেড়ে কয়েকগুণ হবে। কারন আরো কয়েকদিন টানা বর্ষন হবে বলে আবহাওয়া অফিস বলছে। ধান ডুবার সঠিক হিসেব নিতে হলে দু তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর ও পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদ পুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর এবং চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর সিলিমপুর ৫ হেক্টর। তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর। সব মিলে ২০৩ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবেছে এর মধ্যে আংশিক ১৫৭ হেক্টর ও পুরোপুরি ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। তবে কলমা ইউপির আজিজপুর, চন্দনকোঠা, কুজিশহর সহ ওই ইউপির ধান ডুবার কোন তথ্য দিতে পারেন নি কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে ধান ডুবেছে পুরোপুরি ভাবে ৪৬ হেক্টর এবং আংশিক ডুবছে ১৫৭ হেক্টর জমি। অবশ্য বৃষ্টির পানি একেবারে থেমে গেলে এর সঠিক হিসেব পাওয়া যাবে। যে সব জমি ডুবেছে এবং পানি ঢুকেছে সে সব জমি থেকে তিন চার দিনের মধ্যে পানি বের হলে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় পার হলে ধান হবে না।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি