ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরের বিএনপি শহর কেন্দ্রিক সভা সমাবেশ আ”লীগের ওয়ার্ডে

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরের বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম শহর কেন্দ্রিক, অপর দিকে ক্ষমতাসীন আ”লীগ উপজেলার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সম্মেলন করছেন। মাঝে মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কর্মী সভা দেখা গেলেও অপ্রতুল। কারন বিএনপিসহ আন্দোলন রত দলগুলো নির্বাচনের তেমন ভাবে প্রস্ততি না থাকলেও আন্দোলনও তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি বলে মনে করছেন নেতারা। সে তুলনায় বিএনপির নির্বাচনী তৎপরতার চেয়ে আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অবশ্য ক্ষমতা সীনরা পুরোদমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দুই বৃহত্তর দলের মধ্যে দুই মেরুকরণে চলছে নানা সমীকরণ। এতে করে এক দলের নির্বাচন প্রস্তুতি অপর দল আন্দোলন মূখী। অবশ্য সাধারণ মানুষের ভোটের প্রতি আগ্রহ নেই বললেই চলে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুনের পর থেকে ক্ষমতা সীন আওয়ামী লীগ প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন করে নতুন নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি সম্মেলনে এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যও রেখেছেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য উপজেলার কামারগাঁ ও পাচন্দর এবং কলমা ইউনিয়ন কে দূভাগে বিভক্ত করে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এতিন ইউনিয়ন বৃহত্তর এজন্যই নাকি বিভক্ত করা হয়। অথচ বাঁধাইড় ইউপি ও তানোর এবং মুন্ডুমালা পৌরসভাকে বিভক্ত না করার কারনে কিছুটা হলেও ক্ষোভ রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। শোকের মাস হিসেবে আগস্ট, এজন্য কোন কমিটি করা হয়নি। তবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জাতীয় শোক দিবসের সভা করেছেন আ”লীগ। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তানোর পৌরসভা, পাঁচন্দর, বাধাইড় এবং চান্দুড়িয়া ইউপির সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আ”লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন চলছে। প্রতিদিন ৮/১০ টি ওয়ার্ডে সম্মেলন করে নতুন নতুন নেতৃত্ব তৈরি করছেন। আবার অনেক ওয়ার্ডে একাধিক নেতা থাকার কারনে কমিটি স্থগিত করা হচ্ছে।

দলীয় সুত্র জানায়, আগামী বছরের শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে নেতা কর্মীদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ তৈরি করতে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কারন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আ”লীগ। সেই চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন কে ঘিরেই এমপির দিক নির্দেশনায় চলছে কমিটি গঠন। তবে রয়েছে বিতর্কও। কিন্তু কোন বিতর্কে কান না দিয়ে এমপি ফারুক চৌধুরী পুরোদমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্যই দলকে সুসংগঠিত করে তৃনমুল কে উজ্জীবিত করা হচ্ছে। গত শনিবার কলমা ইউনিয়ন পূর্ব শাখার ৪ টি ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় দরগাডাংগা স্কুল মাঠে। কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঢাক ঢল পিটিয়ে সম্মেলনে উপস্থিত হন।

কিন্তু রহস জনক কারনে কমিটি ঘোষনা করতে পারেন নি নেতারা। একারনে চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এক প্রকার বাধ্য হয়ে নেতারা পরে কমিটি করা হবে বলে মঞ্চ ত্যাগ করেন। গত সপ্তাহে কামারগাঁ ইউনিয়ন উত্তরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষনা না করেই চলে যান নেতারা। ওয়ার্ডে একাধিক নেতা নেতৃত্ব পেতে মরিয়া হয়ে পড়ছেন। এটাকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য তৃনমুল পর্যায়ে যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী সেটাই মনে করছেন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

সিনিয়র নেতারা জানান, আগামী নির্বাচন কে সামনে রেখে দল গোছানো হচ্ছে এটা ভালো দিক। কিন্তু তানোর পৌরসভা কমিটিকে দূর্বল বলে মনে করছেন অনেকেই। কারন পৌর সভাপতি ছিলেন মেয়র ইমরুল হক। তিনি এমপি বিরোধী এজন্য তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। কিন্তু সে তো জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বাহিরে যেতে পারবেন না। তাহলে কেন একজন মেয়রকে কোন পদে রাখা হলনা বা সম্মেলনে আমন্ত্রণ পর্যন্ত করা হয়নি।

সভাপতি করা হলো গোকুল গ্রামের বাসিন্দা আকচা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিনকে। তিনি তো তানোর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবার চান্দুড়িয়া ইউপির সম্মেলনের সময় ইউপি ভোটে নৌকার বিরোধীতা কারিরা সভায় আসা মাত্রই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে এমপি নিজেই বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে তাদেরকে দলীয় পদ দেওয়া হবেনা। তাহলে পাচন্দর ইউনিয়ন উত্তর শাখার সভাপতি করা হয়েছে হাজী ইসরাইল কে।তিনি তো গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা করেছিলেন এবং নৌকার চেয়ারম্যান যে মামলা করেছেন সেই মামলার আসামী। তাহলে কেন এক চোখে তেল আর এক চোখে নুন এমন নানা প্রশ্ন বিরাজ মান । এসবওতো রাজনীতির মাঠে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন ও সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন চলছে। যা কিছুই করা হচ্ছে নির্বাচনকে ঘিরে। কারন আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং, সেটা কিভাবে মোকাবেলা করে ফারুক চৌধুরী কে পুনরায় নির্বাচিত করা যায় সে লক্ষে দল কে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। যে কোন সময়ের চেয়ে তানোর আ”লীগ অনেক শক্তিশালী ও গতিশীল। কিন্তু সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাবেক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এমপি বিরোধী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

গোলাম রাব্বানী এমপি মনোনায়ন প্রত্যাশী হিসেবে আগস্ট মাসে উপজেলায় বেশ কয়েকটি সভা করেন। তিনি ছাড়াও আরো কয়েকজন মনোনায়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। তবে এসবে আমলে নিচ্ছেন না এমপি। তিনি সাব বলছেন, মনোনায়ন চাইতে পারে।কিন্তু দলে লবিংগ্রপিং না করে সবাই এক সাথে কাজ করলে বিরোধীরা স্থান পাবেন না। সেটা না করে তারা আলাদা ভাবে কেন এটা আমার বোঝে আসেনা। তিনি সবাইকে এক কাতারে আসার আহবান জানান।

অপর দিকে বিএনপির এক দফা সরকার পতন আন্দোলন করছেন রাজশাহী শহরে। তবে জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নওহাটা বিমান বন্দর থেকে বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তানোরে আসেন। দীর্ঘ সময় পর বিএনপির বাইক শোডাউন কে নির্বাচনী শোডাউন হিসেবেই ধরছেন। অবশ্য তানোর বিএনপি দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সাবেক সম্পাদক মফিজ ও কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকরা রয়েছেন বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিননের পক্ষে। অপর গ্রুপ সাবেক মেয়র মিজান ও বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান গ্রুপ রয়েছেন ব্যারিস্টার মিলনের পক্ষে। আবার ফেসবুকে মিজানকেই আগামীর ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। এত কঠিন মূহুর্তেও বিএনপি এক কাতারে না আসতে পারায় সিনিয়র নেতারাও ক্ষুব্ধ। তবে শহরে মিছিল মিটিংয়ে একসাথেই দেখা যায় উভয়গ্রুপকে।

বিএনপির নেতাদের দাবি, আগে নিরপেক্ষ সরকার বা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ তারপর হবে নির্বাচনের বিষয়। কারন এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। আর সেই নির্বাচনে বিএনপি যাবেনা এবং এমন পাতানো নির্বাচন হতেও দেওয়া হবে না। তানোর বিএনপি আগেও শক্তিশালী ছিল এখনো আছে। উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির ঘোষনা হলেই বিএনপি পালন করতে প্রস্তুত। গত শনিবার প্রয়াত বিএনপি নেতা এমরান আলী মোল্লাগো ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্ডুমালায় দোয়া মাহফিল করে বিএনপি।

এছাড়াও জামায়াতের প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ করতে দেখা যায় না। তবে গত ১৫ আগস্ট আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায়। এটাকে কেন্দ্র করে রাতে জামায়াতে দুই নেতাসহ একজন বিএসসি শিক্ষক ও মুন্ডুমালা কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বর্ষিয়ান ব্যাক্তি মাওলানা আমির হোসেন আটক করে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে নাশকতা মামলার জন্য আটক করা হয়েছে।

আর জামায়াতের দাবি গায়েবানা জানাজার নামাজের জন্যই তাদেরকে আটক করা হয়। এমপি প্রার্থী হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের গত ঈদূল আজহা উপলক্ষে উপজেলার আনাচে কানাচে পোষ্টার মারা রয়েছে। এটাকেই এক প্রকার নির্বাচনী তৎপরতা হিসেবে দেখছেন উপজেলাবাসী। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাবেনা জামায়াত। আগে নিরপেক্ষ সরকার পরে নির্বাচন।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরের বিএনপি শহর কেন্দ্রিক সভা সমাবেশ আ”লীগের ওয়ার্ডে

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরের বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম শহর কেন্দ্রিক, অপর দিকে ক্ষমতাসীন আ”লীগ উপজেলার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সম্মেলন করছেন। মাঝে মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কর্মী সভা দেখা গেলেও অপ্রতুল। কারন বিএনপিসহ আন্দোলন রত দলগুলো নির্বাচনের তেমন ভাবে প্রস্ততি না থাকলেও আন্দোলনও তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি বলে মনে করছেন নেতারা। সে তুলনায় বিএনপির নির্বাচনী তৎপরতার চেয়ে আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অবশ্য ক্ষমতা সীনরা পুরোদমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দুই বৃহত্তর দলের মধ্যে দুই মেরুকরণে চলছে নানা সমীকরণ। এতে করে এক দলের নির্বাচন প্রস্তুতি অপর দল আন্দোলন মূখী। অবশ্য সাধারণ মানুষের ভোটের প্রতি আগ্রহ নেই বললেই চলে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুনের পর থেকে ক্ষমতা সীন আওয়ামী লীগ প্রতিটি ইউনিয়নে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন করে নতুন নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি সম্মেলনে এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যও রেখেছেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য উপজেলার কামারগাঁ ও পাচন্দর এবং কলমা ইউনিয়ন কে দূভাগে বিভক্ত করে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এতিন ইউনিয়ন বৃহত্তর এজন্যই নাকি বিভক্ত করা হয়। অথচ বাঁধাইড় ইউপি ও তানোর এবং মুন্ডুমালা পৌরসভাকে বিভক্ত না করার কারনে কিছুটা হলেও ক্ষোভ রয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। শোকের মাস হিসেবে আগস্ট, এজন্য কোন কমিটি করা হয়নি। তবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জাতীয় শোক দিবসের সভা করেছেন আ”লীগ। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তানোর পৌরসভা, পাঁচন্দর, বাধাইড় এবং চান্দুড়িয়া ইউপির সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আ”লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন চলছে। প্রতিদিন ৮/১০ টি ওয়ার্ডে সম্মেলন করে নতুন নতুন নেতৃত্ব তৈরি করছেন। আবার অনেক ওয়ার্ডে একাধিক নেতা থাকার কারনে কমিটি স্থগিত করা হচ্ছে।

দলীয় সুত্র জানায়, আগামী বছরের শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে নেতা কর্মীদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ তৈরি করতে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কারন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আ”লীগ। সেই চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন কে ঘিরেই এমপির দিক নির্দেশনায় চলছে কমিটি গঠন। তবে রয়েছে বিতর্কও। কিন্তু কোন বিতর্কে কান না দিয়ে এমপি ফারুক চৌধুরী পুরোদমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্যই দলকে সুসংগঠিত করে তৃনমুল কে উজ্জীবিত করা হচ্ছে। গত শনিবার কলমা ইউনিয়ন পূর্ব শাখার ৪ টি ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় দরগাডাংগা স্কুল মাঠে। কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঢাক ঢল পিটিয়ে সম্মেলনে উপস্থিত হন।

কিন্তু রহস জনক কারনে কমিটি ঘোষনা করতে পারেন নি নেতারা। একারনে চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এক প্রকার বাধ্য হয়ে নেতারা পরে কমিটি করা হবে বলে মঞ্চ ত্যাগ করেন। গত সপ্তাহে কামারগাঁ ইউনিয়ন উত্তরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষনা না করেই চলে যান নেতারা। ওয়ার্ডে একাধিক নেতা নেতৃত্ব পেতে মরিয়া হয়ে পড়ছেন। এটাকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য তৃনমুল পর্যায়ে যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী সেটাই মনে করছেন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

সিনিয়র নেতারা জানান, আগামী নির্বাচন কে সামনে রেখে দল গোছানো হচ্ছে এটা ভালো দিক। কিন্তু তানোর পৌরসভা কমিটিকে দূর্বল বলে মনে করছেন অনেকেই। কারন পৌর সভাপতি ছিলেন মেয়র ইমরুল হক। তিনি এমপি বিরোধী এজন্য তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। কিন্তু সে তো জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বাহিরে যেতে পারবেন না। তাহলে কেন একজন মেয়রকে কোন পদে রাখা হলনা বা সম্মেলনে আমন্ত্রণ পর্যন্ত করা হয়নি।

সভাপতি করা হলো গোকুল গ্রামের বাসিন্দা আকচা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিনকে। তিনি তো তানোর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবার চান্দুড়িয়া ইউপির সম্মেলনের সময় ইউপি ভোটে নৌকার বিরোধীতা কারিরা সভায় আসা মাত্রই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে এমপি নিজেই বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে তাদেরকে দলীয় পদ দেওয়া হবেনা। তাহলে পাচন্দর ইউনিয়ন উত্তর শাখার সভাপতি করা হয়েছে হাজী ইসরাইল কে।তিনি তো গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা করেছিলেন এবং নৌকার চেয়ারম্যান যে মামলা করেছেন সেই মামলার আসামী। তাহলে কেন এক চোখে তেল আর এক চোখে নুন এমন নানা প্রশ্ন বিরাজ মান । এসবওতো রাজনীতির মাঠে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন ও সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদীপ সরকার বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন কে সামনে রেখে ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলন চলছে। যা কিছুই করা হচ্ছে নির্বাচনকে ঘিরে। কারন আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং, সেটা কিভাবে মোকাবেলা করে ফারুক চৌধুরী কে পুনরায় নির্বাচিত করা যায় সে লক্ষে দল কে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। যে কোন সময়ের চেয়ে তানোর আ”লীগ অনেক শক্তিশালী ও গতিশীল। কিন্তু সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাবেক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এমপি বিরোধী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

গোলাম রাব্বানী এমপি মনোনায়ন প্রত্যাশী হিসেবে আগস্ট মাসে উপজেলায় বেশ কয়েকটি সভা করেন। তিনি ছাড়াও আরো কয়েকজন মনোনায়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। তবে এসবে আমলে নিচ্ছেন না এমপি। তিনি সাব বলছেন, মনোনায়ন চাইতে পারে।কিন্তু দলে লবিংগ্রপিং না করে সবাই এক সাথে কাজ করলে বিরোধীরা স্থান পাবেন না। সেটা না করে তারা আলাদা ভাবে কেন এটা আমার বোঝে আসেনা। তিনি সবাইকে এক কাতারে আসার আহবান জানান।

অপর দিকে বিএনপির এক দফা সরকার পতন আন্দোলন করছেন রাজশাহী শহরে। তবে জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নওহাটা বিমান বন্দর থেকে বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তানোরে আসেন। দীর্ঘ সময় পর বিএনপির বাইক শোডাউন কে নির্বাচনী শোডাউন হিসেবেই ধরছেন। অবশ্য তানোর বিএনপি দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সাবেক সম্পাদক মফিজ ও কৃষক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকরা রয়েছেন বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিননের পক্ষে। অপর গ্রুপ সাবেক মেয়র মিজান ও বিএনপির আহবায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান গ্রুপ রয়েছেন ব্যারিস্টার মিলনের পক্ষে। আবার ফেসবুকে মিজানকেই আগামীর ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। এত কঠিন মূহুর্তেও বিএনপি এক কাতারে না আসতে পারায় সিনিয়র নেতারাও ক্ষুব্ধ। তবে শহরে মিছিল মিটিংয়ে একসাথেই দেখা যায় উভয়গ্রুপকে।

বিএনপির নেতাদের দাবি, আগে নিরপেক্ষ সরকার বা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ তারপর হবে নির্বাচনের বিষয়। কারন এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। আর সেই নির্বাচনে বিএনপি যাবেনা এবং এমন পাতানো নির্বাচন হতেও দেওয়া হবে না। তানোর বিএনপি আগেও শক্তিশালী ছিল এখনো আছে। উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির ঘোষনা হলেই বিএনপি পালন করতে প্রস্তুত। গত শনিবার প্রয়াত বিএনপি নেতা এমরান আলী মোল্লাগো ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্ডুমালায় দোয়া মাহফিল করে বিএনপি।

এছাড়াও জামায়াতের প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ করতে দেখা যায় না। তবে গত ১৫ আগস্ট আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায়। এটাকে কেন্দ্র করে রাতে জামায়াতে দুই নেতাসহ একজন বিএসসি শিক্ষক ও মুন্ডুমালা কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বর্ষিয়ান ব্যাক্তি মাওলানা আমির হোসেন আটক করে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে নাশকতা মামলার জন্য আটক করা হয়েছে।

আর জামায়াতের দাবি গায়েবানা জানাজার নামাজের জন্যই তাদেরকে আটক করা হয়। এমপি প্রার্থী হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের গত ঈদূল আজহা উপলক্ষে উপজেলার আনাচে কানাচে পোষ্টার মারা রয়েছে। এটাকেই এক প্রকার নির্বাচনী তৎপরতা হিসেবে দেখছেন উপজেলাবাসী। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাবেনা জামায়াত। আগে নিরপেক্ষ সরকার পরে নির্বাচন।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি