ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোর মডেল পাইলট স্কুলে নিয়োগ নিয়ে লংকা কান্ড

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৭২ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বিএনপি নেতার পুত্র কে গোপনে নিয়োগ বোর্ড করার সময় প্রার্থীর পিতা চোলাইমদ সেবন করে প্রকাশ্যে প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিসার ও ডিজির প্রতিনিধি কে নানা ভাবে হুমকি প্রদান করেন পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ।

রবিবার বিকেল ৪ টার দিকে স্কুল মাঠ চত্বরে ঘটে এমন ঘটনা। এঘটনায় ডিজির প্রতিনিধির গাড়ী চালক দ্রুত সটকে পড়েন। পরীক্ষা চলাকালিন বহিরাগত মাদকসেবীর এমন কান্ডে শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ। সেই সাথে মাতাল তানোর পৌর সদর তানোর পাড়ার বিএনপি নেতা লতিফের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। শুধু এটাই না প্রধান শিক্ষক সেলিম উদ্দিন কে ধাক্কা পর্যন্ত মারেন। এছাড়াও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না উপস্থিত ছিলেন না।

জানা গেছে, চলতি বছরের ০৬ এপ্রিল তিনটি শূন্য পদে দ্বিতীয় বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে মোতাবেক রবিবার দুটি পদ স্থগিত রেখে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে নিয়োগ পরিক্ষা ও বোর্ডের সময় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আব্দুল লতিফ ধানের শীষের প্রার্থী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের জন্য বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ওই সময় লতিফ সেচ্ছাসেবক দলের পৌরসভার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সদরের নব্য আমিলীগ বনে গেছেন। অথচ সদরে যারা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রান তাদের পরিবারে নেই চাকুরী। আর সাবেক সেচ্ছাসেবক দলের নেতার ছেলেকে মোটা টাকার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে নিয়োগ। কিছুই বলারও নাই, দেখারও কেউ নাই। এভাবেই নব্যদের দাপটে চরম কোনঠাসা প্রবীণ ত্যাগী আওয়ামীলীগ। গরু দামের মত করে নিয়োগের টাকা আদায় করা হচ্ছে। যে বেশি টাকা দিবে তার হচ্ছে নিয়োগ।

প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম সেলিম বলেন, নিয়োগ পরিক্ষা চলাকালীন প্রার্থীর পিতার প্রবেশ করা ঠিক হয়নি। সে মাতাল অবস্থায় আমাকেও ধাক্কা মেরেছে। সভাপতি নাই নিয়োগ বোর্ড পরিক্ষা কিভাবে হয় জানতে চাইলে তিনি জানান এসব বিষয়ে না জানায় ভালো বলে এড়িয়ে যান।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পরিক্ষার সময় প্রার্থীর পিতা মাতাল অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কে ধাক্কা দেয়া অমানবিক কাজ। সভাপতি না থাকলে নিয়োগ পরিক্ষা, বোর্ড করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সভাপতি উপজেলায় ছিল, পরিক্ষা হওয়ার পর সাক্ষর করে নেয়া হয়েছে। তিনি আজ তানোরেই আসেন নি প্রশ্ন করা হলে কোন সদ উত্তর দিতে পারেন নি তিনি ।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি শারিরীক অসুস্থতার কারনে শহরের বাড়িতে আছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন। জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন বলেন, সভাপতি ছাড়া নিয়োগ পরিক্ষা ও বোর্ড হবে না, হলেও সেটা অবৈধ।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোর মডেল পাইলট স্কুলে নিয়োগ নিয়ে লংকা কান্ড

আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বিএনপি নেতার পুত্র কে গোপনে নিয়োগ বোর্ড করার সময় প্রার্থীর পিতা চোলাইমদ সেবন করে প্রকাশ্যে প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিসার ও ডিজির প্রতিনিধি কে নানা ভাবে হুমকি প্রদান করেন পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ।

রবিবার বিকেল ৪ টার দিকে স্কুল মাঠ চত্বরে ঘটে এমন ঘটনা। এঘটনায় ডিজির প্রতিনিধির গাড়ী চালক দ্রুত সটকে পড়েন। পরীক্ষা চলাকালিন বহিরাগত মাদকসেবীর এমন কান্ডে শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ। সেই সাথে মাতাল তানোর পৌর সদর তানোর পাড়ার বিএনপি নেতা লতিফের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। শুধু এটাই না প্রধান শিক্ষক সেলিম উদ্দিন কে ধাক্কা পর্যন্ত মারেন। এছাড়াও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না উপস্থিত ছিলেন না।

জানা গেছে, চলতি বছরের ০৬ এপ্রিল তিনটি শূন্য পদে দ্বিতীয় বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সে মোতাবেক রবিবার দুটি পদ স্থগিত রেখে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে নিয়োগ পরিক্ষা ও বোর্ডের সময় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আব্দুল লতিফ ধানের শীষের প্রার্থী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের জন্য বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ওই সময় লতিফ সেচ্ছাসেবক দলের পৌরসভার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সদরের নব্য আমিলীগ বনে গেছেন। অথচ সদরে যারা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রান তাদের পরিবারে নেই চাকুরী। আর সাবেক সেচ্ছাসেবক দলের নেতার ছেলেকে মোটা টাকার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে নিয়োগ। কিছুই বলারও নাই, দেখারও কেউ নাই। এভাবেই নব্যদের দাপটে চরম কোনঠাসা প্রবীণ ত্যাগী আওয়ামীলীগ। গরু দামের মত করে নিয়োগের টাকা আদায় করা হচ্ছে। যে বেশি টাকা দিবে তার হচ্ছে নিয়োগ।

প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম সেলিম বলেন, নিয়োগ পরিক্ষা চলাকালীন প্রার্থীর পিতার প্রবেশ করা ঠিক হয়নি। সে মাতাল অবস্থায় আমাকেও ধাক্কা মেরেছে। সভাপতি নাই নিয়োগ বোর্ড পরিক্ষা কিভাবে হয় জানতে চাইলে তিনি জানান এসব বিষয়ে না জানায় ভালো বলে এড়িয়ে যান।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পরিক্ষার সময় প্রার্থীর পিতা মাতাল অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কে ধাক্কা দেয়া অমানবিক কাজ। সভাপতি না থাকলে নিয়োগ পরিক্ষা, বোর্ড করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সভাপতি উপজেলায় ছিল, পরিক্ষা হওয়ার পর সাক্ষর করে নেয়া হয়েছে। তিনি আজ তানোরেই আসেন নি প্রশ্ন করা হলে কোন সদ উত্তর দিতে পারেন নি তিনি ।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি শারিরীক অসুস্থতার কারনে শহরের বাড়িতে আছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন। জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন বলেন, সভাপতি ছাড়া নিয়োগ পরিক্ষা ও বোর্ড হবে না, হলেও সেটা অবৈধ।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি