ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির অভাবে রোপন হয়নি প্রায় ৬০ হাজার বিঘা আমন

সারোয়ার হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩ ৫২ বার পড়া হয়েছে

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে প্রায় ৬০ হাজার বিঘা জমি রোপন করতে পারেনি কৃষকরা। গত সপ্তাহের শুক্রবারে টানা ভারি বর্ষন হয়। এরপর আর বৃষ্টির দেখা মিলেনি। কৃষকরা জমি চাষ করে রেখেছেন রোপনের জন্য। কিন্তু পানির অভাবে চাষকৃত জমি শুকনো হয়ে পড়েছে। পানি না পেলে চাষ রোপন কোনটাই হবেনা বলে মনে করছেন কৃষকরা। এতে করে কৃষকের কপালে চরম ভাজ পড়েছে,সেই সাথে যারা রোপন করেছেন তাদের জমি ফেটে চৌচির। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তানোর পৌরসভা, তালন্দ,সরনজাই, পাচন্দর ও চান্দুড়িয়া এবং কামারগাঁ ইউপির বেশির ভাগ জমিতে রোপা আমন রোপন শেষ হয়েছে। কিন্তু মু্ন্ডুমালা পৌরসভা ও পাচন্দর, বাধাইড় এবং কলমা ইউপির উঁচু জমিগুলো চাষ করা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব এলাকা প্রচন্ড খরাপ্রবন। জমি রোপনের দু,তিন দিন পানি না হলে শুকে যায়। বিশেষ করে বাধাইড় ও মুন্ডুমালা পৌর এবং কলমা ইউপির উপর এলাকার জমিগুলো বেশিরভাগ চাষ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হয়তো একটি চাষ দিয়ে আবার অনেকের জমি মই দিয়ে সমতল করলেই রোপন হয়ে যাবে। এদিকে পাঁচন্দর ও কলমা ইউপির আংশিক জমি রোপন হয়নি।

আবার কামারগাঁ ইউপি ছাঐড় মাঠে হিমাগার নির্মানের কারনে জমি পুকুরে রুপান্তর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানির জন্য জমি চাষ পর্যন্ত করতে পারেননি।

ওই এলাকার বেশকিছু কৃষকরা জানান, হিমাগার নির্মানের শুরুতে বৃষ্টির পানি বের করার জন্য আমরা বলেছিলাম। কিন্তু কোন কর্নপাত না করে রাস্তার নয়নজুলি পর্যন্ত দখল করেছে। যার কারনে পানি বের হচ্ছেনা। আবার সপ্তাহ ধরে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে,পানি থেকে চরম দূর্গন্ধ বের হওয়া শুরু হয়েছে।দ্রুত পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে চাষাবাদ করা যাবেনা বলেও মনে করছেন তারা।

এছাড়াও বাধাইড় ইউপি ও মুন্ডুমালা পৌর এলাকা এবং কলমা ইউপির উত্তর পশ্চিমে হাজার হাজার হেক্টর জমি চাষ করা আছে। কিন্তু বৃষ্টি বা সেচের পানির অভাবে রোপন করতে পারছেন না।

বাধাইড় গ্রামের কৃষক শফিকুল ওই এলাকার সাদিকুল, দুরুল, বাচ্চুসহ অনেকে জানান, রোপা আমন চাষ প্রতি বছর করে থাকেন কৃষকরা। এআবাদই উপজেলাবাসীর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। বিগত সময়ে শ্রাবন মাস জুড়ে রোপন হত। কিন্তু আলু চাষের জন্য আষাঢ় ও শ্রাবনের প্রথম সপ্তাহের দিকেই রোপন হয়ে যায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সময়মত বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে শতশত একর জমিতে আম, বরইসহ নানান বাগান করেছেন কৃষি জমিতে।

দুএক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে পুনরায় নতুন ভাবে জমি চাষ করতে হবে। আবার যারা রোপন করেছেন তাদের জমি ফেটে চৌচির হয়ে পড়ে রয়েছে। যাদের জমির পার্শ্বে খাল বা পুকুর আছে তারা কোন রকমে সেচ দিয়ে রোপনকৃত ধান গাছ রক্ষা করছেন। কিন্তু যারা সেচ দিতে পারছেন না তাদের রোপন করা ধান গাছের অবস্থা চরম আশংকা জনক। পানি না পেলে মরে যাবে।

বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক করিম বাধাইড় গ্রাম থেকে মিশন পাড়ায় যাচ্ছিলেন। রাস্তার পার্শ্বে রোপন করা জমি ব্যাপকহারে ফেটে পড়েছে। তিনি জানান, গভীর নলকূপ বা মটর থেকে সেচ দিচ্ছে না। আবার দিবে কি ভাবে, তারপরও সেচ দেয়ার জন্য চালু করলে অল্প সময়ের মধ্যে গভীর নলকূপ বিকল বা পানি উঠেনা। শতশত একর জমি চাষ করা আছে।

স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক নুর মোহাম্মাদ বলেন, অতীতে শ্রাবন মাস জুড়েই জমি রোপন করা হত। কিন্তু আলু চাষের জন্য আগাম রোপন করে থাকেন এখন। কারন রোপনের আগেই আলুর জন্য জমি লীজ হয়ে যায়। এসব টার্গেট করে কৃষকরা বীজও আগাম করেন। দু চার দিনের মধ্যে বৃষ্টির পানি না হলে বীজের বয়স হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বয়স্কো বীজ রোপন করলে ফলন কম হবে। রোপা আমন বৃষ্টির পানি নির্ভর চাষাবাদ। কিন্তু জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারনে একদিন বৃষ্টি হচ্ছে তো ছয় সাত দিন বৃষ্টির পানির দেখা নেই। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার শেষ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভারি বর্ষন হয়। ভারি বর্ষনের কারনে সপ্তাহের ব্যবধানে লক্ষমাত্রার দুভাগ জমি রোপন হয়েছে। বিশেষ করে মুন্ডুমালা, বাধাইড় ও কলমা ইউপির উপরি ভাগের জমিগুলোতে পানি নেই।

বৃষ্টির পানি পেয়ে কৃষকরা জমি চাষ করতে পারলেও রোপন করতে পারছেন না। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার থেকে ২১ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত ৩৪, ৩৩, ৩৫ ও ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সাথে ছিল রোদের প্রচন্ড প্রখরতা ও ভ্যাবসা গরম। ২১ জুলাই শুক্রবারে বৃষ্টির সম্ভবনা ছিল বলে আবহাওয়া দপ্তর অবহিত করেছিল। সন্ধ্যার পর থেকে মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টি নেই, আছে বাতাস।

বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউপির বেশির ভাগ জমি রোপন হয়নি। কিন্তু চাষ করা আছে। একটা ভারি বর্ষন হলেই কৃষকরা জমি রোপন করতে পারবেন। কত বিঘামত জমি রোপন হয়নি জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক হিসেব দেয়া কষ্টকর,এসব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। তবে বেশির ভাগ জমি রোপন হয়নি, আবার যারা রোপন করতে পেরেছেন তাদের জমিতে নেই পানি। বৃষ্টির পানি না হলে সেচের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি আহবান জানান তিনি।

সুত্রে মতে, উপজেলায় মোট আবাদ যোগ্য জমি আছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় জমি রয়েছে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভূত জমি আছে ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, এক ফসলী জমি রয়েছে ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী জমি রয়েছে ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিন ফসলী জমি রয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর, এখন পর্যন্ত রোপন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি। শ্রাবন মাস জুড়েই রোপা আমন রোপন করে থাকেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানি না হলে অবশ্যই সেচের ব্যবস্থা করে জমি রোপন করা হবে। এক ইঞ্চি পতিত জমি রাখা হবে না এবং কৃষকের পাশে থেকে গত বোরো ও আউসে যেরকম বাম্পার ফলন হয়েছে, রোপা আমনেও হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বৃষ্টির অভাবে রোপন হয়নি প্রায় ৬০ হাজার বিঘা আমন

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর তানোরে সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে প্রায় ৬০ হাজার বিঘা জমি রোপন করতে পারেনি কৃষকরা। গত সপ্তাহের শুক্রবারে টানা ভারি বর্ষন হয়। এরপর আর বৃষ্টির দেখা মিলেনি। কৃষকরা জমি চাষ করে রেখেছেন রোপনের জন্য। কিন্তু পানির অভাবে চাষকৃত জমি শুকনো হয়ে পড়েছে। পানি না পেলে চাষ রোপন কোনটাই হবেনা বলে মনে করছেন কৃষকরা। এতে করে কৃষকের কপালে চরম ভাজ পড়েছে,সেই সাথে যারা রোপন করেছেন তাদের জমি ফেটে চৌচির। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তানোর পৌরসভা, তালন্দ,সরনজাই, পাচন্দর ও চান্দুড়িয়া এবং কামারগাঁ ইউপির বেশির ভাগ জমিতে রোপা আমন রোপন শেষ হয়েছে। কিন্তু মু্ন্ডুমালা পৌরসভা ও পাচন্দর, বাধাইড় এবং কলমা ইউপির উঁচু জমিগুলো চাষ করা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব এলাকা প্রচন্ড খরাপ্রবন। জমি রোপনের দু,তিন দিন পানি না হলে শুকে যায়। বিশেষ করে বাধাইড় ও মুন্ডুমালা পৌর এবং কলমা ইউপির উপর এলাকার জমিগুলো বেশিরভাগ চাষ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হয়তো একটি চাষ দিয়ে আবার অনেকের জমি মই দিয়ে সমতল করলেই রোপন হয়ে যাবে। এদিকে পাঁচন্দর ও কলমা ইউপির আংশিক জমি রোপন হয়নি।

আবার কামারগাঁ ইউপি ছাঐড় মাঠে হিমাগার নির্মানের কারনে জমি পুকুরে রুপান্তর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানির জন্য জমি চাষ পর্যন্ত করতে পারেননি।

ওই এলাকার বেশকিছু কৃষকরা জানান, হিমাগার নির্মানের শুরুতে বৃষ্টির পানি বের করার জন্য আমরা বলেছিলাম। কিন্তু কোন কর্নপাত না করে রাস্তার নয়নজুলি পর্যন্ত দখল করেছে। যার কারনে পানি বের হচ্ছেনা। আবার সপ্তাহ ধরে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে,পানি থেকে চরম দূর্গন্ধ বের হওয়া শুরু হয়েছে।দ্রুত পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে চাষাবাদ করা যাবেনা বলেও মনে করছেন তারা।

এছাড়াও বাধাইড় ইউপি ও মুন্ডুমালা পৌর এলাকা এবং কলমা ইউপির উত্তর পশ্চিমে হাজার হাজার হেক্টর জমি চাষ করা আছে। কিন্তু বৃষ্টি বা সেচের পানির অভাবে রোপন করতে পারছেন না।

বাধাইড় গ্রামের কৃষক শফিকুল ওই এলাকার সাদিকুল, দুরুল, বাচ্চুসহ অনেকে জানান, রোপা আমন চাষ প্রতি বছর করে থাকেন কৃষকরা। এআবাদই উপজেলাবাসীর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। বিগত সময়ে শ্রাবন মাস জুড়ে রোপন হত। কিন্তু আলু চাষের জন্য আষাঢ় ও শ্রাবনের প্রথম সপ্তাহের দিকেই রোপন হয়ে যায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সময়মত বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে শতশত একর জমিতে আম, বরইসহ নানান বাগান করেছেন কৃষি জমিতে।

দুএক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে পুনরায় নতুন ভাবে জমি চাষ করতে হবে। আবার যারা রোপন করেছেন তাদের জমি ফেটে চৌচির হয়ে পড়ে রয়েছে। যাদের জমির পার্শ্বে খাল বা পুকুর আছে তারা কোন রকমে সেচ দিয়ে রোপনকৃত ধান গাছ রক্ষা করছেন। কিন্তু যারা সেচ দিতে পারছেন না তাদের রোপন করা ধান গাছের অবস্থা চরম আশংকা জনক। পানি না পেলে মরে যাবে।

বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক করিম বাধাইড় গ্রাম থেকে মিশন পাড়ায় যাচ্ছিলেন। রাস্তার পার্শ্বে রোপন করা জমি ব্যাপকহারে ফেটে পড়েছে। তিনি জানান, গভীর নলকূপ বা মটর থেকে সেচ দিচ্ছে না। আবার দিবে কি ভাবে, তারপরও সেচ দেয়ার জন্য চালু করলে অল্প সময়ের মধ্যে গভীর নলকূপ বিকল বা পানি উঠেনা। শতশত একর জমি চাষ করা আছে।

স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক নুর মোহাম্মাদ বলেন, অতীতে শ্রাবন মাস জুড়েই জমি রোপন করা হত। কিন্তু আলু চাষের জন্য আগাম রোপন করে থাকেন এখন। কারন রোপনের আগেই আলুর জন্য জমি লীজ হয়ে যায়। এসব টার্গেট করে কৃষকরা বীজও আগাম করেন। দু চার দিনের মধ্যে বৃষ্টির পানি না হলে বীজের বয়স হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বয়স্কো বীজ রোপন করলে ফলন কম হবে। রোপা আমন বৃষ্টির পানি নির্ভর চাষাবাদ। কিন্তু জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারনে একদিন বৃষ্টি হচ্ছে তো ছয় সাত দিন বৃষ্টির পানির দেখা নেই। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার শেষ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভারি বর্ষন হয়। ভারি বর্ষনের কারনে সপ্তাহের ব্যবধানে লক্ষমাত্রার দুভাগ জমি রোপন হয়েছে। বিশেষ করে মুন্ডুমালা, বাধাইড় ও কলমা ইউপির উপরি ভাগের জমিগুলোতে পানি নেই।

বৃষ্টির পানি পেয়ে কৃষকরা জমি চাষ করতে পারলেও রোপন করতে পারছেন না। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার থেকে ২১ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত ৩৪, ৩৩, ৩৫ ও ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সাথে ছিল রোদের প্রচন্ড প্রখরতা ও ভ্যাবসা গরম। ২১ জুলাই শুক্রবারে বৃষ্টির সম্ভবনা ছিল বলে আবহাওয়া দপ্তর অবহিত করেছিল। সন্ধ্যার পর থেকে মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টি নেই, আছে বাতাস।

বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউপির বেশির ভাগ জমি রোপন হয়নি। কিন্তু চাষ করা আছে। একটা ভারি বর্ষন হলেই কৃষকরা জমি রোপন করতে পারবেন। কত বিঘামত জমি রোপন হয়নি জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক হিসেব দেয়া কষ্টকর,এসব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। তবে বেশির ভাগ জমি রোপন হয়নি, আবার যারা রোপন করতে পেরেছেন তাদের জমিতে নেই পানি। বৃষ্টির পানি না হলে সেচের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি আহবান জানান তিনি।

সুত্রে মতে, উপজেলায় মোট আবাদ যোগ্য জমি আছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় জমি রয়েছে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভূত জমি আছে ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, এক ফসলী জমি রয়েছে ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী জমি রয়েছে ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিন ফসলী জমি রয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর, এখন পর্যন্ত রোপন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি। শ্রাবন মাস জুড়েই রোপা আমন রোপন করে থাকেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানি না হলে অবশ্যই সেচের ব্যবস্থা করে জমি রোপন করা হবে। এক ইঞ্চি পতিত জমি রাখা হবে না এবং কৃষকের পাশে থেকে গত বোরো ও আউসে যেরকম বাম্পার ফলন হয়েছে, রোপা আমনেও হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।


প্রসঙ্গনিউজবিডি/জে.সি