শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

দুই বছর ঘুরে মঙ্গলবার একনেকে যাচ্ছে গলাচিপা সেতু প্রকল্প

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ১০ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক : পরিকল্পনা কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেতে দুই বছর আগে ‘বরিশালের লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের রাবনাবাদ নদীর উপর গলাচিপা সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে বিভিন্ন খাতের সংশোধন করে একনেকে আসতে দুই বছর সময় লাগলো প্রকল্পটির। এতে করে বাস্তবায়ন মেয়াদ ও প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি তোলা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২১ কোটি টাকা। ২০২০ সালে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবের সময় প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২০৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিরি (পিইসি) সভা শেষে প্রকল্পটি ফেরত পাঠালে সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় দাঁড়ায় ৩২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এক দফাতেই প্রথম প্রস্তাবের চেয়ে ১২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেড়ে যায়। এরপর আবারও বিভিন্ন সংশোধনী দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় প্রকল্পটি। এরপর আরও ১৯১ কোটি টাকা খরচ বাড়িয়ে পাঠনো হয়। যা পিইসি সভা শেষে একনেকের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পটি আগামীকাল একনেকে উপস্থাপনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডিপিপি সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়। সর্বশেষ সংশোধিত ডিপিপিতে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য খরচ বৃদ্ধির খাতগুলো হলো- নদীশাসন কাজে ১৭১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, আরসিসি ফেল্ডার পাইল নির্মাণে বেড়ে গেছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া নৌ-ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে বেড়েছে ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা, পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেড়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদও বেড়েছে। প্রথম প্রস্তাবে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরে এক বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে- পটুয়াখালী জেলার সদর ও বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, আমতলী উপজেলা নদীবেষ্টিত। লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কটি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাগলা থেকে শুরু হয়েছে। এরপর বাউফল উপজেলার মধ্য দিয়ে দশমিনা, গলাচিপা হয়ে পটুয়াখালী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। সড়কটি বাউফল, দশমিনা উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা সদরে যাওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত পথ। বর্তমানে রাবনাবাদ নদীতে ফেরি সার্ভিস রয়েছে। নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে রাবনাবাদ চ্যানেলে দুই লেন বিশিষ্ট ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ৮ শতাংশ হারে সড়কটির যান চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এ সেতু নির্মাণ হলে বছরে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর উপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় সদর ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপন।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৮৮২.৮১ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ৭.৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৬০০ মিটার নদী শাসন, ১.৪ কিলোমিটার নতুন পেডমেন্ট নির্মাণ এবং ১টি ব্রিজ টোল প্লাজা নির্মাণ।

অনুমোদনের আগেই ব্যয় বাড়ার বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, ‘প্রকল্পটি বেশ কিছু কারণে সংশোধন করতে হয়েছে। না হলে দেখা যেত অনুমোদনের পরেই আবার ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। এছাড়া রেট শিডিউলের কারণেও কিছুটা ব্যয় বেড়েছে। তবে প্রকল্প গ্রহণের সময় অবশ্যই ফিজিবিলিটি যথাযথভাবে করা উচিত। প্রথমে ফিজিবিলিটি স্টাডি সঠিকভাবে করে ডিপিপি পাঠালে এতবার সংশোধন করতে হতো না। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির সময় বারবার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শিতার পরিচয়।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....