বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

ফুটবল বিশ্বকাপ অর্থ অপচয়ের মাধ্যম?

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৫ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কাতার অর্থ ব্যয়ে কৃপণতা করছে এ কথা কোনো দর্শকই বলবে না। বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমোদন পাওয়ার পর গত ১২ বছরে দেশটি ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই আয়োজন থেকে মাত্র ১৭ বিলিয়ন ডলার কাতারের অর্থনীতিতে যোগ হতে পারে।

মূলত নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেও এসব অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। তবে খেলাধুলা সম্পর্কিত বড় বড় আয়োজনে বিনিয়োগ সব সময় একটি ব্যর্থ প্রকল্প।

লুইসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৬৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বড় ৩৬টি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ৩১টি ইভেন্টই বড় ধরনের ক্ষতির মুখ দেখে। ১৪টি ফুটবল বিশ্বকাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাত্র একটিতে লাভ হয়েছে। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ২৩৫ মিলিয়ন ডলার লাভ হয়। এদিকে মেক্সিকো বিশ্বকাপের তথ্য এখনো অপূর্ণ। সম্ভাবত এটাতেও ঘাটতি রয়েছে।

বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে মূলত সব ব্যয় বহন করতে হয় স্বাগতিক দেশকে। ফিফা শুধু অপারেশনাল ব্যয় বহন করে। তারপরও অধিকাংশ আয় যায় ফিফার পকেটে। টিকিট, স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ত বিক্রির অর্থের মালিক শুধু সংস্থাটি।

লুইসেনের গবেষণায় শুধু স্টেডিয়াম ও লজিস্টিক ব্যয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে পরোক্ষ বিষয় যেমন কাতারের নতুন মেট্রো ও হোটেল নির্মাণের ব্যয়টি বাইরে রেখেছে। সেখানের কিছু অবকাঠামো অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। কিন্তু অনেক ব্যয় বহুল স্টেডিয়াম অব্যবহৃত থেকে যাবে। তাছাড়া এই ইভেন্টে আশপাশের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখবে না।

আয়োজক দেশের নাগরিকরা তাদের দেশের সরকারগুলোর কাছে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে যে এত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচের ফলে তাদের লাভ কোথায়?। তাই অনেক দেশই এখন স্বেচ্ছায় আয়োজক দেশ হতে চায় না। ২০১৬ সালের গ্রীষ্মকালের অলিম্পিক আয়োজন করতে সাতটি দেশ আগ্রহী হলেও ২০২৪ সালের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে মাত্র দুইটি দেশ।

বৈশ্বিক বড় ইভেন্ট আয়োজন করতে খরচ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ১৯৯৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মোট ১৬টি দল অংশ নেয়। এতে খেলোয়াড়প্রতি খরচ হয় দুই লাখ ডলার। ২০১৮ সালে এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় সাত মিলিয়ন ডলার। প্রত্যেক আয়োজক দেশেই খরচ বাড়ে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে। কাতারের আটটি স্টেডিয়ামের মধ্যে সাতটিই নতুন নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড একটিও নির্মাণ করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....