সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

বাঘায় বৃদ্ধি পেয়েছে মাদকের দাম, কমেনি সেবনকারী

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ১২ দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত এলাকায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে মাদকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কমেনি সেবনকারী। উপরন্তু একের পর-এক বেড়েই চলেছে অপরাধ প্রবনতা। আর এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন-সহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। অভিযোগ উঠেছে, কতিপয় ব্যক্তি মাদক বিক্রেতাদের নিকট থেকে টাকা এনে পুলিশকে সহায়তা করছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত রবিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক তৈয়ব-সহ দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা এসে দাঁড়ালে সেখানে অবস্থিত পান-সিগারেট ও বিস্কুট চানাচুর বিক্রেতা তার কাঠের ঢোপ ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় তার হাতে গাঁজা ভর্তি একটি প্লাষ্টিক এর কৌটা ছিলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ওই দোকানদারকে পেছন থেকে ধাওয়া করেছিলো। কিন্তু অল্পের জন্য তাকে ধরতে পারেনি। এ ঘটনার পর পুলিশ কিছু লোকজনের সাক্ষাতকার এবং একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে থানায় মামলা দেওয়ার কথা বলে চলে যান। তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। উপরন্তু পর দিন থেকে বহাল তবিয়তে ঐ ব্যবসায়ী তার দোকান পরিচালনা করছেন।

এদিকে গত ১৪ নভেম্বর উপজেলা আইন শৃংখলা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন, চোরাচালান প্রতিরোধ ও নাশকতা প্রতিরোধ বিষয়ে অনুষ্ঠিত চারটি মাসিক সভায় কয়েকজন বক্তা বলেন, পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাঘায় অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত একমাসে এ উপজেলায় শুধু ভ্যান ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে দু’জন চালকের গলায় ছুরিকাঘাত-সহ একজন চালককে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও গত ৯ তারিখ উপজেলা সদরে অবস্থিত বাঘা বানিজ্যিক কলেজের সামনে সকাল আনুমানিক ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে তৃতীয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাশা-পাশি দু’টি ইউনিটে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে।

এ ঘটনায় বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এবং একজন সরকারি কর্মচারী সোহেল আহাম্মেদ এই দু’জনের ঘর থেকে চুরি গেছে দুইভরি স্বর্ণ-সহ প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও সম্প্রতি বাঘা মাজারে ঘুরতে আসা এক নারী সহ গত ১২ তারিখ উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার সাজিপাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার সময় চক-নারায়নপুর গ্রামের শিশু রায়মার গলা থেকে চেইন ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বলছেন, এসব অপরাধ প্রবনতার প্রধান কারণ মাদক। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে সক্রিয় হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তারা রাত-দিন সমান তালে সীমান্ত এলাকায় মাদক বিক্রি করছে। এর আগে যারা এক সময়ে আত্মগোপনে ছিল তারা এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা। অভিযোগ রয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে চুনোপুটিরা গ্রেফতার হলেও চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী গডফাদাররা বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করে সীমান্তে দৌরাত্ত্ব বৃদ্ধি করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কর্মকান্ড। তাদের অভিযোগ, কতিপয় ব্যক্তি বড়-বড় মাদক বিক্রেতাদের নিকট থেকে টাকা এনে পুলিশকে সহায়তা করছে।

বাঘার আলাইপুর সীমান্ত এলাকার একজন স্কুল শিক্ষক জানান, অত্র এলাকায় প্রতিনিয়ত বহিরাগত কতিপয় যুবক দামি মোটরে সাইকেল যোগে এসে মাদক কয় সহ সেবন করে যাচ্ছে। এ অঞ্চলে এক সময় এক বোতল ফেন্সিডিল তিন’শ থেকে পাঁচশত টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে এর দাম বেড়ে ১৫ শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তার পরেও কমছেনা সেবনকারীদের সংখ্যা।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তদন্ত আব্দুল করিম জানান, ছোট-খাটো দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া থানার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা অবস্থা পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য তথ্য দিয়ে জনগনকে সহায়তা করতে হবে। অপর দিকে সক্রিয় হতে হবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সহ সীমান্তরক্ষী বিজিবি কর্মকর্তাদের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....