বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

নতুন হলের আসন বণ্টনে জটিলতা, ছাত্রীদের বিক্ষোভ

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৫ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফজিলাতুন্নেছা হলের সব ছাত্রীকে একসঙ্গে নবনির্মিত ১০তলা হলে স্থানান্তরের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে হলটির সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তবে নবনির্মিত হলে আটটি ছাত্রী হল থেকে বিভিন্ন বর্ষের ১০০ জন করে ছাত্রীকে আসন দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় নতুন হলের আসন বিন্যাস নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন হলটির প্রভোস্ট। এসময় ছাত্রীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করলে হল প্রশাসন তা মানতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত ১১টার দিকে ফজিলাতুন্নেছা হলের ছাত্রীরা আগুন জ্বালিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবির মধ্যে রয়েছে, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফজিলাতুন্নেসা হলের আবাসন স্থানান্তর নিশ্চিত করা, প্রথম উদ্বোধন হতে যাওয়া নবনির্মিত হলের নামও ‘ফজিলাতুন্নেসা’ রাখা, অগ্রাধিকারভিত্তিতে ফজিলাতুন্নেসার সব ছাত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করা, ফজিলাতুন্নেসার সব ছাত্রীকে একসঙ্গে স্থানান্তর করা এবং অতিসত্বর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো।

ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪৪ ব্যাচের ছাত্রী মুমু বলেন, প্রতিটি হল থেকে ১০০ জন করে নতুন হলে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে। কেননা গত দুই বছর থেকে প্রতিশ্রুতি শুনছি আমাদের দুর্ভোগকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বপ্রথম এই হলের ছাত্রীদের নতুন হলে উঠানো হবে। কিন্তু হঠাৎ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক হল থেকে ছাত্রী নেওয়া হবে, যা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা।

৪৯ ব্যাচের ছাত্রী তানজিনা তাবাসসুম তন্দ্রা বলেন, নতুন হলে উঠানোর কথা বলে এখানে দুই বছর ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ হয় না। এখানকার ওয়াশরুমগুলো ব্যবহারের অযোগ্য, রিডিং রুম-ডাইনিং রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। তাছাড়া স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, বৃষ্টিতে পানির ছিটার কারণে এখানে থাকা আমাদের পক্ষে অসাধ্য হয়ে পড়েছে।

৪৮ ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের মনি নাসরীন বলেন, আমাদের অনেকেই চতুর্থ বর্ষে এসেও গণরুমে থাকতে হচ্ছে। এই অমানবিক পরিবেশ আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

 

এসব বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান বলেন, আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের যে দাবি তা প্রভোস্ট কমিটির সভায় উপস্থাপন করেছি। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা যে সমস্যার ভুক্তভোগী সেই একই সমস্যায় একটু কম হলেও অন্য হলের শিক্ষার্থীরাও ভুক্তভোগী বলে জানিয়েছেন প্রভোস্টরা।

তিনি বলেন, আসলে প্রতিটি হলে গণরুম বন্ধ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্তের রিভিউ করতে গেলেও পুনরায় মিটিং করতে হবে। মিটিং হলে শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরা হবে।

এর আগে, গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল হলে নবনির্মিত দুটি হলের আসন বণ্টনের বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। জাবি উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে হলগুলোর প্রভোস্টরা অংশ নেন।

এতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি হলের ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ১০০ জন শিক্ষার্থীকে নতুন হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা আগামী ২২ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষা শাখায় জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমাদের যে সিদ্ধান্ত এটা উপাচার্য কোনো একক সিদ্ধান্ত নেননি, প্রভোস্ট কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে গেলে পুনরায় প্রভোস্ট কমিটির সভায় তা করতে হবে। এটুকু সময় তো আমাদের দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের হয় নতুন হল উদ্বোধন পেছাতে হবে অথবা গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি সব হল উদ্বোধনের জন্য দেরি করতে হয় তবে গণরুমের মধ্য দিয়েই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করতে হবে। আমরা গণরুম কখনোই চাই না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....