শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

হিযবুত তাহরীরের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তারে সহায়তা চায় এটিইউ

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২
  • ১২ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক : নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীরের পলাতক ছয় সদস্যকে শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে জনস্বার্থে ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এটিইউর পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস উইং) মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে বেশ কিছু উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে আটটি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ‘হিযবুত তাহরীর’ অন্যতম। এ সংগঠনটিকে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীরের বেশ কিছু সক্রিয় সদস্য ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অনলাইনে সমাবেশ করে। তাদের ভাষ্যমতে, খিলাফত রাষ্ট্রের সংবিধান কীভাবে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে, খিলাফত রাষ্ট্রের সংবিধান কীভাবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করবে, খিলাফতে রাশিদাহ অতি সন্নিকটে। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র কীভাবে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করবেসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

মো. ফয়সাল অনলাইন সমাবেশে কোরআন তিলওয়াত করেন। পরবর্তী সময়ে আবারও ওই বছরের ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টায় তারা অনলাইনে সমাবেশ করেন। মো. আবু জায়িদ তার ভাষ্য মতে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি আজ এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কেন?’ এই বিষয়ে প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

আব্দুর রহমান তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, ‘ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং নেতৃত্বশীল অর্থনীতি প্রতিষ্ঠায় আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রের নীতিমালা’ নিয়ে প্রায় ৩৩ মিনিট আলোকপাত করেন।

ইমাদুল আমিন তার মত করে প্রায় ২৩ মিনিট ধরে ‘খিলাফতে রাশিদাহ্ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বাধাসমূহ ও সেগুলো উত্তরণে জনগণের প্রতি তাদের দিক নির্দেশনা’ দেন এবং হাফিজ আল রাজি আবারও ওই অনলাইন সমাবেশে কোরআন তিলওয়াত করেন।

ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের উগ্রবাদী কার্যক্রম প্রচার-প্রচারণার জন্য আবু জায়িদ, শিবলি আহম্মেদ, ইমাদুল আমিন, মো. ফয়সাল, আ. রহমান ও হাফিজ আল রাজির বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২ মার্চ গুলশান থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক মামলা হয়। একই বছরের ১৯ অক্টোবর একই অভিযোগে উল্লেখিত দুই ধারায় ভাটারা থানায় পৃথক মামলা হয়। মামলা দায়েরের পরই ওই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

এ বিষয়ে এটিইউ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান জানান, আসামিরা দেশ থেকে চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে যেকোন মূল্যে কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, ভীতি ও দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করে আসছে। এছাড়াও তারা সাধারণ জনগণকে তাদের সংগঠনের প্রতি এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সাইবার স্পেস ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

আসামিরা দেশ ও জনগণের শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত সম্পন্ন ও নিষিদ্ধ সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীরের পলাতকদের আসল নাম, ঠিকানা শনাক্তকরণের জন্য জনস্বার্থে আসামিদের ছবি ও তথ্য মিডিয়ায় প্রচার এবং তাদের আইনে সোপর্দ করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....