সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

শরীফের করা দুর্নীতির মামলার আসামিরা এবার একাট্টা

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২
  • ১০ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এবার একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন দুর্নীতির অভিযোগে তারই করা মামলার আসামিরা। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে শরীফের বিরুদ্ধে শরীফের বিরুদ্ধে ঘুস দাবি, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনেছেন তারা।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সারওয়ার হোসেন, একই প্রতিষ্ঠানের সার্ভেয়ার দিদারুল আলম ও আরএফ বিল্ডার্সের মালিক দেলোয়ার হোসেন।

দুদকের অনুমোদন নিয়ে এই তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেছিলেন শরীফ উদ্দিন। এর মধ্যে এক মামলায় সারওয়ার হোসেনকে গ্রেফতারও করেন শরীফ। অন্যদিকে আর এফ বিল্ডার্সের দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন তিনি। ওই মামলায় দেলোয়ার হোসেন জেলও খেটেছেন।

লিখিত বক্তব্যে সারওয়ার হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে শরীফ তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছিলেন। নিয়ম মেনে তিনি নগরের হালিশহর থেকে চান্দগাঁওয়ে ১২টি গ্যাসের চুলার সংযোগ স্থানান্তর করেছেন বলে দাবি করেন সারওয়ার। শরীফের শাশুড়ির আকবর শাহ এলাকার বাসার গ্যাসের একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় শরীফ তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারে জমি অধিগ্রহণ মামলায় সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আরেক আসামি বেলায়েত হোসেনের একটি অডিও ক্লিপ শোনানো হয়। ওই অডিও শুনিয়ে সারওয়ার হোসেন দাবি করেন, বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে ঘুস দাবি করেছিলেন শরীফ। তবে অডিও ক্লিপটির কোথাও ঘুস দাবির কথা শোনা যায়নি।

এসময় আরএফ বিল্ডার্সের মালিক দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, চট্টগ্রামে বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে শরীফ তার বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা করেছিলেন। তবে কেজিডিসিএলের সার্ভেয়ার দিদারুল আলম সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করেননি। তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে শরীফ তাকে গ্যাস সংযোগ স্থানান্তর মামলার আসামি ও গ্রেফতার করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

১২টি সংযোগ স্থানান্তরের পাশাপাশি আরও ১০টি নতুন সংযোগ কীভাবে দেওয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার হোসেন সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে ঘটনার সময় আবাসিক ভবনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ২০২১ সালের ১০ জুন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকোশলী সারওয়ার হোসেন (৫৮), ব্যবস্থাপক (লোড ডেসপাচ) মো. মজিবুর রহমান (৫৭) এবং টেকনিশিয়াল মো. দিদারুল আলম (৫৭) আলমকে গ্রেফতার করে দুদক।

এর আগে হালিশহরের নুরজাহান নামে এক গ্রাহকের অব্যহৃত ১২টি আবাসিক সংযোগ অবৈধভাবে প্রভাবশালী এক গ্রাহকের নামে হস্তান্তর এবং আরও ১০টি নতুন সংযোগ দেওয়ার মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন দুদকের চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০, ১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....