বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন সেবা ‘ট্রলিম্যান’

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২
  • ৯৩ দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ট্রলি নিলেই এতদিন রোগী ও তাদের স্বজনদের গুনতে হতো টাকা। এই টাকা আদায়ে হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীরা ছিলেন বেপরোয়া। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।

এই সমস্যা নিরসনে আজ বৃহস্পতিবার (১০নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় রামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে ট্রলিম্যান নামক নতুন একটি সেবা উদ্বোধন করলেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামিম ইয়াজদানী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের উপ পরিচালক গৌতম কুমার পাল, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট সুফিয়া খাতুন, ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল আহমেদ প্রমুখ।

এই সেবার ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে যে কেউ ট্রলি নিতে পারবে। খাতায় নাম তোলার পর ফেরত যোগ্য ১০০ টাকা জমা দিলেই মিলবে ট্রলি। ওয়ার্ডে রোগী আনা-নেয়ার পর ট্রলি রেখে জমা টাকা ফেরত নিতে পারবে। ট্রলিম্যান সেবায় যদি কোন ব্যক্তি ট্রলি নিয়ে যেতে না পারে তাহলে কাউন্টার থেকে ৫০টাকার কুপন কাটলেই ট্রলিম্যান ট্রলি নিয়ে যেতে তাকে সহযোগিতা করবে। এই পদ্ধতির ফলে রোগীর ভোগান্তি থেকে কিছুটা হলেও কমবে মনে করছেন জনসাধারণ। সেই সাথে ট্রলি ম্যানদের লাগামহীন টাকার দাবি তা থেকেও সাধারণ জনগণ মুক্তি পাবেন বলে মনে করছেন তারা।

রাজশাহীর বাঘা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন মিজানুর রহমান। নতুন নিয়মে ট্রলিম্যান সেবায় তিনি সন্তুষ্ট। মিজানুর রহমান বলেন, আগে ট্রলি ধরলেই ১০০-২০০ টাকা দিতে হতো। অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। কিন্তু এখন আর সেটি থাকবে না।

হাসপাতালে আসা শুভ বলেন, রোগীর সঙ্গে কেবল আমিই এসেছি। ১০০ টাকা জমা দিয়ে ট্রলি নিয়ে যাওয়ার পর রোগী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ফলে ট্রলি ফিরিয়ে দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ নিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আমাকে বকাঝকা করেছেন। আমার মতো অনেকেই এই ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক পাশে রাখা হয়েছে ট্রলি। সেখান থেকে অনবরত মাইকে এই সেবার ঘোষণা দিচ্ছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। ঘোষণা শুনে ট্রলিম্যান সেবা নিচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

দায়িত্বরত এক আনসার-ভিডিপি সদস্য বলেন, আজ থেকে হাসপাতালে বিশেষ এই ট্রলিম্যান সেবা চালু হয়েছে। ৪৫টি ট্রলি এই সেবা দিচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গড়ে প্রতিদিন এক হাজার ৮০০ রোগী ভর্তি হন হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে ফেরেন সহস্রাধিক। এদের সেবায় ৪৫টি ট্রলি পর্যাপ্ত নয়। যার জন্য আরো বেশ অনেকগুলো ট্রলি ও হুইলচেয়ার বানাতে দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী ২/৩ মাসের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো। আর ট্রলি ম্যানদের জন্য মাস শেষে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু টাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা সেই ৫০টাকার কুপন ও হাসপাতালের নিজস্ব ফান্ড থেকে দেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....