বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

রামেক হাসপাতালে ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানির ২ বছর

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ৯৯ দেখেছেন

সামিয়া খন্দকার: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানির রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে ২ বছর পূর্ণ হল আজ। ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর তিনি এ মেডিকেলে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।

রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মচারীসহ চিকিৎসা নিতে আসা অনেকের সাথে কথা বলেই জানা গেছে, গত দুই বছরের অর্থাৎ এই পরিচালক হাসপাতালে যোগদান করার পর থেকে হাসপাতালের অনেক উন্নতি হয়েছে। রোগীদের উন্নত মানের সেবা দিতে তিনি সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ২ বছরে আউটডোর ও ইনডোর প্যাথলজি, ব্লাড ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও আউটডোরের টিকেট কাউন্টার ৬টি থেকে ১৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এতে কমেছে রোগিদের ভোগান্তি ও অপেক্ষার সময়কাল।

রোগির স্বজন সুজন আলী বলেন, ‘শহরে বাড়ি হলেও রামেক হাসপাতালে তেমন আসা হয় না। নিজের বা স্বজনদের প্রাইভেট ক্লিনিকেই চিকিৎসকদের দেখাই। তবে গত পরশু (রবিবার) হার্টের সমস্যার কারণে আত্মীয়কে ভর্তি করি। ভর্তির পরে ভেতরে ঢুকে আমি অবাক হয়েছি। কারণ হাসপাতালে যে একটা দুর্গন্ধ ছিল এখন সেটি নেই। পুরো হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। অনেকটাই ক্লিনিকের মতো।’

তিনি আরও বলেন, রোগি বেশি হওয়া চিকিৎসায় পেতে ধীর গতি। তবে ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা ভালোই চিকিৎসা দিচ্ছেন। একসময় হাসপাতালটিতে ঢুকতেই দুর্গন্ধ লাগতো। এখন ড্রেনগুলোর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকায় দুর্গন্ধ দূর হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- গেল ২ বছরে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসপাতালে মডার্ন লেবার রুম তৈরী, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে নানা রকম উদ্যোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য অ্যাপ্রন ড্রেন, দালাল দূরীকরণের উদ্যোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগি ও রোগির স্বজনদের ভোগান্তি দূর করতে নানা রকম সাইনবোর্ডের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা, প্যাথলজির সক্ষমতা বৃদ্ধি, করোনা ওয়ার্ড, হাসপাতালের নিজস্ব অক্সিজেন সিলিন্ডার ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া চলমান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ও ক্যাজুয়ালিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ, মডার্ন মরচ্যুয়ারী, গাইনী আউটডোর, দর্শনার্থী গোসলখানার সাথে টয়লেট (২ টা মহিলা, ২টা পুরুষ) ৪০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ভবন দুই তলা আছে যা ছয়তলা করা হচ্ছে, বাগানের সৌন্দর্য্য বর্ধন, হাসপাতালের সৌন্দর্য্য বর্ধন, ১০ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ ডিপার্টমেন্ট, রেডিওলজি এক্সটেনশন, স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাব স্টেশন ইত্যাদি।

এছাড়া ক্যাজুয়ালটি এক্সটেনশন, বজ্রনিরোধক স্টেশন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগীয় প্রধানের অফিস মর্ডানাইজ করা, প্রশাসনিক ভবনের ফ্লোর ও ওয়াল টাইলস পরিবর্তন, তিনটা কেবিনের দরজা পরিবর্তন করা, প্রশাসনিক ভবনের দরজা জানালা পরিবর্তন, তিন তলা বিশিষ্ট গাইনী ওটি ও হাসপাতালের সামনের অংশ সৌন্দর্য বর্ধনে রঙ করা হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানি বলেন, আমি যখন প্রথম এই হাসপাতালে যোগদান করি তখন হাসপাতালের নোংরা পরিবেশসহ চিকিৎসা সেবার মান দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। তখন থেকেই এসব সমস্যা দূর করার জন্য নানা উদ্যোগ হাতে নিই। জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের জন্য জনগণকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....