বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

মৃত্যু এক অজ্ঞতা, খ্রিষ্ট ছাড়া কেউ মৃত্যুকে জয় করেনি

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ৭৫ দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক


খ্রিষ্টধর্মের বিশ্বাসীগণ ২ নভেম্বর বিকার ৩.৩০ মিনিটে সকল মৃত ব্যক্তির আত্মার চিরশান্তি লাভের জন্য তাদের কবর স্থানে গীর্জা, প্রার্থনা ও মোমবাতি প্রজ্বলন করেন । যা তাদের একপ্রকার বিশ্বাসের জায়গা থেকে করেন । দিনটি অতিভক্তি সহকারে তারা পালন করে । বিশ্বাস করেন তাদের প্রার্থনা গুনে যারা এই পৃথিবীতে থাকা কালীন অবস্থায় নানা ভাবে পাপ কাজ করে গেছে তাদের আত্মা যেন তাদের প্রার্থনা গুনে স্বর্গে স্থান পায় ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের কথিড্রাল ধর্মপল্লীর সহকারী পুরোহিত ফাদার সুরেশ জানান খ্রীস্ট ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের জন্য তাৎপর্যপূর্ন একটি দিন। আমরা এ দিনটিকে ‘মৃতলোকের পর্ব’ হিসাবে পালন করে থাকি। এদিনে আমরা আমাদের আত্নীয়-স্বজন,পরিবার-পরিজন,বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী, মৃত মানুষদের স্বরণ করে থাকি ও তাদের আত্নার মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করে থাকি। এ দিনটিতে অনেকেই যেমন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় অশ্রুসিক্ত হয়ে ভক্তিভরে কবরস্থানে প্রার্থনা করতে যান, আবার অনেকেই সেখানে যান মোমবাতির আলোয় আলোকিত কবরস্থানে নিজের শেষ ঠিকানাকে আলোঝলমলে করলে কেমন দেখায় তা বেঁচে থাকা অবস্থায় দেখে যান। কারণ এটি প্রতিটি মানুষের জীবনে অনিবার্য ।

আরেক ফাদার কাছে জানতে চায়লে তিনি বলেন মৃত্যু হল ভয়! মৃত্যু নিয়ে মানুষের এত ভয় কেন? কারণ মৃত্যু এক অজ্ঞতা, খ্রিষ্ট ছাড়া কেউ মৃত্যুকে জয় করেনি। মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে নেই কোন বাহারি, চটকদার বিজ্ঞাপন বা প্রজ্ঞাপন। মৃত্যুর পরের জগৎটা বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাপ্রবন আর কল্পনা বিষয়টি কেমন যেন ধূয়াশায় পূর্ন; ঠিক আস্থা রাখা যায় না। এই জগতে জীবনটা অনেক ছোট, কতই বা আয়ু ৫০/১০০/১৫০! মহাকালের তুলনায় মিনিক মাত্র।

জীবন ছোট হলেও আমাদের সাধ-আহল্লাদ কিন্তু নেহাত কম না, বলতে গেলে ফুরাবার না, তাই তো কেউ মরতে চায় না। জীবনে যারা চরম ব্যার্থ, আশাহীন, নতুনের স্বপ্ন দেখে না তারাই মাত্র আপাতদৃষ্টিতে মৃত্যু চায়, কিন্তু বাস্তবতা হল মৃত্যু সামনে এলে তারাও বাঁচতে চায়। আদতে মরতে কেউ চায় না। আগামীকালের সূর্যটা সবাই দেখতে চায়। আজকের জিবনটা শত কষ্টের হলেও আগামীকাল ভাল হবে এ আশায় মানুষ স্বপ্ন দেখে, বাঁচতে চায়।যারা মরে যায় তারাও মরার পরে আরেক জীবন বাচতে চায়। ভাবা যায় মানুষের যদি মৃত্যু না হত, তাকে যদি শত সহস্র বা কোটি বছর বাচতে হত! ওহ কি বোরিং হত জীবনটা কারন সময়ের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে, জিবনকে জিবনের রঙে রাঙ্গাতে না পারলে জিবন অর্থহীন – ভষ্মতুল্য।

এই দিনটিতে অনেকেই কবরস্থানে প্রিয়জনের রেখে যাওয়া স্মৃতি মনে করে অশ্রুসিক্ত নয়নে চেয়ে থাকেন । যদিও তারা জানেন জন্মিলে মরতে হবে। তবুও তারা বিশ্বাস করেন যে সেই প্রিয় মানুষটির জন্য হয়তো স্বর্গে আবার একত্রে মিলিত হবেন ।


প্রসঙ্গ নিউজ২৪/জে.সি

 

 

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....