শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০২ অপরাহ্ন

মুখে খাওয়ার করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে চীন

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৬ দেখেছেন

নিউজ ডেস্ক


বিশ্বে প্রথমবারের মতো মুখে খাওয়ার করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে চীন। বুধবার দেশটির বাণিজ্য নগরী সাংহাইতে শুরু হয়েছে নতুন এ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় মুখে টিকা নেওয়ার ছবি ও ভিডিও চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম প্রচার করেছে। সংবাদসূত্র : এএফপি, আল-জাজিরা

চীন সরকারের দেওয়া তথ্য বলছে, যারা এরই মধ্যে দু’টি টিকা নিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে তাদের ‘বুস্টার’ হিসেবে মুখে নেওয়ার টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। পরের ধাপে প্রাথমিক পর্যায়ের টিকা দেওয়ার জন্যও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে বলে

জানানো হয়েছে।

বেইজিংয়ের দাবি, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দ্রম্নত টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কার্যকর হবে। এই পদ্ধতিতে এক ব্যক্তিকে টিকা দিতে সর্বোচ্চ ২০ সেকেন্ড সময় লাগে।

ফলে দ্রম্নত টিকা দেওয়া সম্ভব।

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করোনার সংক্রমণ রোধে বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। কিন্তু এখনো পৃথিবীর বড় অংশের মানুষের টিকাদান বাকি। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা চাইছেন আরও দ্রম্নত টিকাদান করতে। কিন্তু বাধা বর্তমান টিকাদান পদ্ধতি। সে কারণেই টিকাদানের আরও সহজ কোনো পথ খুঁজছেন তারা। এজন্য সিরিঞ্জের মাধ্যমে প্রথাগত টিকাদান পদ্ধতির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে নাকে স্প্রের মাধ্যমে নেওয়া টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেই পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখে নেওয়ার টিকা চালু করল চীন।

লকডাউনে আরও কয়েকটি শহর

এদিকে, চীনে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে ?শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিনের মতো এক হাজার জনের ওপরে সংক্রমণ রেকর্ড করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে মধ্য চীনের উহানসহ উত্তর-পশ্চিম চীনের শহরগুলোতে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাড়ানো হচ্ছে।

২০১৯ সালে উহান থেকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল করোনাভাইরাস। বর্তমানে শহরটিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০-২৫ জন করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এরপরই স্থানীয় প্রশাসন এই শহরের আট লাখের বেশি মানুষকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি শহরটিতে শূকরের মাংস বিক্রি করাও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে শূকরের মাংস সম্পর্কযুক্ত- এমন তথ্য উঠে আসার পরেই এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

অর্থনৈতিক দিক থেকে চীনের চতুর্থ বৃহৎ শহর ও গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী গুয়াংজু। সম্প্রতি শহরটির বিভিন্ন এলাকা ও সড়কে নতুন করে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংক্রমণের উচ্চঝুঁকির ?মুখে নতুন করে শহরটির বেশ কয়েকটি এলাকায় লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বুধবার কিংহায় প্রদেশের রাজধানী শিনিংয়ের বেশকিছু সবজি ও ফলের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকান মালিকদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় শহরটিতে খাবারের স্বল্পতা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় দেশটির বড় বড় শহর, যেমন- ঝেংঝৌ, দাতং ও জিয়ানে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার একজন দর্শনার্থীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বেইজিংয়ের ‘ইউনিভারসাল থিম পার্ক’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একের পর এক লকডাউন ও শাট ডাউনের ফলে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সেই সঙ্গে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

বৈশ্বিক সংক্রমণ হারের দিক দিয়ে চীনের সংক্রমণ হার তুলনামূলক কম। তবে চলতি বছরে ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করে দেশটির সরকার। আর এর প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিতে।


প্রসঙ্গনিউজ২৪/জে.সি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....