সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

মর্যাদার সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে শিক্ষক দিবস

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ২০ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক : দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে পালিত হওয়া শিক্ষক দিবস শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদার সংকট নিরসনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.টি.এম. মইনুল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাধ্যক্ষ বলেন, জাতীয়ভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপনের বিষয়টি দেশের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। আজকের এ দিনে আমার সকল সহকর্মীসহ বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যাদের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো সারাদেশের সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে এটি পালন করা হচ্ছে। এই দিবসের ফলে সামাজিকভাবে শিক্ষকদের আলাদা একটি  স্থান তৈরি হবে। কেননা আমরা সকলেই জীবনের একটি বিশেষ সময় পর্যন্ত কোন না কোন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে জীবনকে গড়ে তুলেছি। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই আমরা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পেরেছি।

সত্তর দশকের শিক্ষকতা আর বর্তমান সময়ের শিক্ষকতার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কতখানি এমন প্রশ্নের উত্তরে উপাধ্যক্ষ বলেন, আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়েছিল সত্তর দশকের শুরুতে যা নব্বই দশকের শুরুতে শেষ করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়ার শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শিক্ষকদের আইডল হিসেবে মেনেছি। তাদের জ্ঞান দান করার পদ্ধতি, জীবনবোধ সম্পর্কে ভাবনা, দূরদর্শিতা সবকিছুই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।  তখনকার শিক্ষকরা নিবেদিত প্রাণ ছিলেন বলেই তারা আমাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। আর বর্তমান সময়ে শিক্ষকরা যে ভূমিকা পালন করছেন তা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে বলে মনে হয় না।

সামাজিক জীবনে শিক্ষকের গুরুত্ব আর আগের মতো নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সমাজ এগিয়েছে আর সময় পরিবর্তিত হয়েছে। সে পরিবর্তিত সময়ের ধারায় শিক্ষক নিজেকে আবির্ভূত করেছেন। আমরা দেখি আগের শিক্ষকদের সামাজিক জীবনে যে মান মর্যাদা ছিল বর্তমান হয়তো কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর বড় কারণ হলো আগের সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণত শিক্ষার্থীকে শিক্ষার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হতো বেশি। তাই তারা শিক্ষকমুখী ছিলেন। আর বর্তমানে শিক্ষাকে বাজারমুখী করে তোলার ফলে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা অর্জন হচ্ছে না। এর কারণে শিক্ষকদের অবস্থান সমাজে ও রাষ্ট্রের কাছে হ্রাস পেয়েছে।

শিক্ষাজীবনের স্মৃতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার কলেজ জীবনের একজন শিক্ষক অধ্যাপক শরীফ স্যার। তাকে আমি সবসময় স্মরণ করি। শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকেই তার পঠন পদ্ধতি আমি নিজে অনুসরণ করতাম। এমনকি এখনো আমার ক্লাস নিতে গেলে তাকে অনুসরণ করি। তাছাড়া এখনকার শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের চাইতে সুনির্দিষ্ট সাজেশন ভিত্তিক পড়াশোনায় আগ্রহী। আমাদের সময় এ ধরনের সিলেবাসভিত্তিক বা সাজেশনভিত্তিক পড়াশোনার পরিমাণ কম ছিল বা ছিল না বললেই চলে। বর্তমানে অনেক কিছুই নতুনভাবে উদ্ভাবন হয়েছে সেগুলোও আবার শিক্ষাক্রম ও কারিকুলামে পরিবর্তন এনেছে। এক্ষেত্রে এই নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বর্তমান সময়ের শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থায় নেওয়া উচিত।

একই সঙ্গে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা দরকার। আর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম সরাসরি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালনার ব্যাপারটি নিশ্চিত করা গেলে সমস্যা ও সংকট অনেকাংশেই কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....