শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

ক্যানসার: ইউনিলিভারের শ্যাম্পু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৮ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক: ব্রিটিশ বহুজাতিক প্রসাধনী পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানি ইউনিলিভারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ডাভ ও অন্যান্য অ্যারোসল ড্রাই শ্যাম্পুতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান বেনজিনের অস্তিত্ব মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি করা পণ্যে ক্যানসারের অস্তিত্ব মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউনিলিভারের প্রসাধন সামগ্রী প্রত্যাহার করে নেওয়ার হিড়িক শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাজারে ইউনিলিভারের এসব পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। ইউনিলিভারের ডাভ ও অ্যারোসল ড্রাই শ্যাম্পুসহ অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রীতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বেনজিনের উপস্থিতি পাওয়ার পর এসব পণ্য ব্যবহারে সতর্ক করে দিয়েছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। তারপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ ইউনিলিভারের প্রসাধনী পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করছে।

শুক্রবার এফডিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইউনিলিভার ডাভ-সহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অ্যারোসল ড্রাই শ্যাম্পু প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এফডিএর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ইউনিলিভারের প্রসাধনী পণ্য রাসায়নিক উপাদান বেনজিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে; যা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। দূষিত পণ্যগুলো ২০২১ সালের অক্টোবরের আগে উৎপাদিত এবং এসব পণ্য খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য বাজারজাত করা হয়েছিল। এসব পণ্য এখনও বাজারে থাকলে তা প্রত্যাহার করে নিতে বলেছে ইউনিলিভার।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ইউনিলিভারের বিক্রি করা অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের শ্যাম্পুও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এফডিএ বলছে, বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া পণ্যের মধ্যে নেক্সাস, সুঅভ, ট্রেসেম্মা এবং টিগির মতো জনপ্রিয় ব্যান্ডের শ্যাম্পু ও অ্যারোসল ড্রাই শ্যাম্পুও রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডাভ ড্রাই শ্যাম্পু ভলিউম অ্যান্ড ফুলনেস, ডাভ ড্রাই শ্যাম্পু ফ্রেশ কোকোনাট, নেক্সাস ড্রাই শ্যাম্পু রিফ্রেশিং মিস্ট এবং সুঅভ প্রফেশনালস ড্রাই শ্যাম্পু রিফ্রেশ অ্যান্ড রিভাইভ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব প্রসাধনী পণ্যে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়ার পর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, সেসব পণ্য আমিরাতের স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য আর পাওয়া যাবে না। তবে আমিরাতের স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া প্রসাধনী পণ্যের সংবাদ সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দুবাই পৌর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এই জাতীয় অন্যান্য পণ্য সম্পর্কে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

দুবাই পৌর কর্তৃপক্ষ বলেছে, দুবাইয়ে আমদানিকৃত পণ্যের উৎস (উৎপাদনের স্থান) ও মার্কিন বাজারে ব্যবসা করা পণ্যের উৎস থেকে আলাদা। এছাড়া প্রত্যেকটি অঞ্চলের পরিবেশগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পণ্যের নির্দিষ্ট মানও আলাদা হয়।যেকোনও ব্র্যান্ডের প্রসাধনী পণ্য ব্যবহারের কারণে কোনও ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা দুবাই পৌর কর্তৃপক্ষের কল সেন্টারের নম্বরে (৮০০৯০০) ফোন করে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে এই সংস্থাটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, গত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রসাধন ও ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারক আরেক কোম্পানি প্রক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বলও (পিজি) তাদের ৩০টির বেশি চুল পরিচর্যার অ্যারোসল স্প্রে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। যার মধ্যে কোম্পানিটির বিভিন্ন ধরনের ড্রাই শ্যাম্পু এবং ড্রাই কন্ডিশনারও ছিল। পিজির এসব পণ্যেও বেনজিনের উপস্থিতির আশঙ্কায় সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....