মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রাক্তন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রক্টরের নেইমারকে ছাড়াই জয় ব্রাজিলের ‘বিএনপি উচ্ছৃঙ্খলতা করলে বরদাশত করা হবে না’- রাসিক মেয়র ছোট্ট স্বপ্নের গল্পপাঠের আসর ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতির পিতার মৃত্যুতে রাসিক মেয়রের শোক ঢাকা থেকে নৌকা নিয়ে বাঘায় পৌঁছে ফুলে ফুলে সিক্ত হলেন-পিন্টু গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ পোর্টে কাস্টমস কার্যক্রম চালুকরণ বিষয়ে মতবিনিময় রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দাদীর মৃত্যুতে শোক শিবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শীতকালীন শাক-সবজির বীজ বিতরণ রাসিক মেয়রের সাথে প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড কমান্ডারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধের বিধান নিয়ে রিটের শুনানি আগামীকাল

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২
  • ২০ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক: জনগণের যেকোনো অধিকার আদায়ে মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশ বা পুলিশের আইন বিধিমালা-২৯ (অ্যাক্ট) চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও শুনানির জন্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

শুনানিতে সভা-সমাবেশ করার বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী বলেন, সভা-সমাবেশ বন্ধ করা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অধ্যাদেশের সেকশন-২৯ সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি মৌলিক অধিকারের বিরোধী। কারণ সংবিধান বলছে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমাবেশ করার কথা। অথচ অধ্যাদেশে পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা। দুটি ভিন্ন জিনিস, ফলে এটি সাংঘর্ষিক।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, সংবিধানে আছে জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সভা-সমাবেশ বন্ধ করা হয়। যেমন একই স্থানে দুই দল সমাবেশ ডাকলে তো অশান্তি হয়। সংবিধানে আছে জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে। তাই জনগণের শান্তির জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্কের পর রিটের শুনানি মূলতবি করা হয়।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

এর আগে সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষমতা সংক্রান্ত পুলিশ অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। রিটে পুলিশের আইন বিধিমালা-২৯ কে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অবৈধ ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিটে এই অধ্যাদেশের অধীন পুলিশের দায়মুক্তির বিধান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রুলস, ২০০৬ এর বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়।

রিটে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর সেকশন ২৯ ও ১০৫ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ) রুলস ২০০৬ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

সেকশন ২৯ এ বলা হয়েছে, জনসাধারণের শান্তি বা নিরাপত্তা রক্ষার জন্য পুলিশ কমিশনার যখনই প্রয়োজন মনে করবেন এবং যতদিনের প্রয়োজন বিবেচনা করবেন লিখিত আদেশে জনসমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করতে পারবেন। তবে এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা সরকারের অনুমতি ছাড়া ৩০ দিনের বেশি দেওয়া যাবে না।

সেকশন ১০৫ এ বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশের কোনো বিধান অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা সে উদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো বিধি, প্রবিধান আদেশ বা নির্দেশের অধীন সরল বিশ্বাসে করা কোনো কাজ বা ক্ষতির জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।

সমাবেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।

গত ২০ অক্টোবর জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মোমেন চৌধুরী। অপর রিটকারীরা হলেন- কে এম জাবির, চাঁদুপর বারের আইনজীবী সেলিম আকবর, রাজধানীর বাসিন্দা শাহ নুরুজ্জামান ও মোহাম্মদ ইয়াসিন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী বলেন, অধ্যাদেশের সেকশন ২৯ সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি মৌলিক অধিকারের বিরোধী। কারণ সংবিধান বলছে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমাবেশ করার কথা। আর অধ্যাদেশে পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা। দুটি ভিন্ন জিনিস, ফলে এটি সাংঘর্ষিক। এছাড়া রুলসে অস্ত্র ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অস্ত্র কেন ব্যবহার করা হবে?

এর জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সবসময় সমাবেশ বন্ধ করা হয় না। যখন (খারাপ) পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তখন সমাবেশ বন্ধ করা হয়। যেমন একই স্থানে দুই দল সমাবেশ ডাকলে তো অশান্তি হয়। আর সংবিধান অনুসারে তো সভা সমাবেশে অস্ত্র ছাড়া আসার কথা। কিন্তু যখন বোমা হামলা হয়। অস্ত্রের ব্যবহার হয়। আর এরকম কিছু হলে তো পুলিশের ঘাড়ে দায় পড়ে। সরকারের ওপর দায় পড়ে।

কোন কোন ক্ষেত্রে জনস্বার্থের মামলা করতে পারবে সেটা আপিল বিভাগের রায়ে আছে। এখানে সেই শর্ত পূরণ হয়নি। তাই এ রিট খারিজযোগ্য বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....