শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

নামাজ না পড়ে শুধু সেজদা করে দোয়া করা যাবে?

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৫ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক : নামাজের বাহির ও ভেতরে মোট ১৩টি ফরজ বিধান রয়েছে। যার কোনও একটি না থাকলে নামাজ আদায় সহী হবে না। এর মধ্যে সাতটি ফরজ নামাজের বাহিরে আর ৬টি ভেতরে। ভেতরের ফরজের মধ্যে একটি হলো, সেজদা করা। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা রুকু কর, সিজদা কর এবং তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত ও সৎকর্ম কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -( সুরা হজ, আয়াত, ৭৭)

আরো বর্ণিত হয়েছে, ‘তুমি কি দেখো না যে আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু ও বহু মানুষ। আর বহু মানুষ (যারা সিজদা করতে অস্বীকার করেছে) তাদের ওপর শাস্তি অবধারিত হয়েছে। বস্তুত আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে সম্মানদাতা কেউ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান তা-ই করেন। ’ (সুরা : হজ, আয়াত : ১৮)

এক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়, যখন সিজদারত থাকে। অতএব তোমরা তখন অধিক দোয়া করতে থাকো।’ -(মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)

রাবিআহ ইবনে কব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে রাত যাপন করতাম। একদা আমি তাঁর অজু ও ইসতেঞ্জা করার জন্য পানি আনলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, তোমার কিছু চাওয়ার থাকলে চাইতে পারো। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার সঙ্গে জান্নাতে থাকতে চাই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ওটা ছাড়া আর কিছু চাও কি? আমি বললাম, এটাই চাই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাহলে বেশি বেশি সিজদার দ্বারা তুমি এই ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করো। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৮৯)

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার যেকোনো উম্মতকে কিয়ামতের দিন আমি চিনে নিতে পারব। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, এত মানুষের মধ্যে আপনি তাদের কিভাবে চিনবেন? তিনি বলেন, তোমরা যদি কোনো আস্তাবলে প্রবেশ করো যেখানে নিছক কালো ঘোড়ার মধ্যে এমন সব ঘোড়াও থাকে, যেগুলোর হাত, পা ও মুখ ধবধবে সাদা, তবে কি তোমরা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না? সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ, পারব। তিনি বলেন, ওই দিন সিজদার কারণে আমার উম্মতের চেহারা সাদা ধবধবে হবে, আর অজুর কারণে হাত-পা উজ্জ্বল সাদা হবে।’ -(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৮৩৬)

নামাজে সেজদা করার সময় মানুষ অনেক সময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে মনের সব ইচ্ছে খুলে বলে। দোয়া করে, প্রশান্তি অনুভব করে। অনেকে আবার বিভিন্ন সময় নামাজ না পড়েই নামাজের বাইরে আল্লাহ তায়ালার দরবারে সেজদাবনত হয়ে দোয়া করে।

এ বিষয়টিকে আলেমরা নিরুৎসাহিত করেন। আলেমরা বলেন, রজ নামাজের সেজদায় গিয়ে তাসবীহ পড়া সুন্নত। নির্ধারিত দোয়া ও তাসবীহ পড়াই বিধেয়। ইচ্ছামত দোয়া করা ফরজ নামাজে নিষিদ্ধ। সুন্নাহ অনুযায়ী মুজতাহিদগণ যেভাবে নামাজ সাজিয়েছেন, তাতে বাড়তি কিছু করার সুযোগ নেই।

হাদিসে সেজদায় দোয়া করার যেসব বর্ণনা এসেছে তা নফল নামাজের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে শেষ রাতের তাহাজ্জুদে অনেক দোয়া দুরুদ সেজদারত অবস্থায়ও করা যায়। তাই নফল নামাজের বাইরে শুধু সেজদায় দোয়া না করাই উচিত।

আলেমদের মতে, হাদীসে যেসব বর্ণনা আছে, তা খুব বড় আলেম ও মুহাক্কেক ব্যক্তিদের কাজ। সাধারণ মানুষের প্রচলিত পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তা না হলে মুস্তাহাব বা জায়েজ আমল করতে গিয়ে, তারা নিয়ম ভেঙ্গে ফেলবেন। তাতে নামাজ নষ্ট হওয়ারও আশংকা থেকে যায়। (ফতোয়া, জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়া আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরী, ১৪৪০০৮২০১৮১৫)

তবে একান্ত কেউ নামাজের বাইরে শুধু সেজদায় দোয়া করলে এটাকে সুন্নত মনে করা বা জরুরি মনে করা এবং কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত পদ্ধতি মনে করা যাবে না। কারণ, এমন মনে করলে তা বিদয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

বিদয়াতের বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘আর সকল নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কারণ, সকল নব উদ্ভাবিত বিষয় বিদয়াত। আর সকল বিদয়াত গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা।’ -(মুসনাদে আহমাদ, ১৭১৪২, ১৭১৪৫)

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....