সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

শঙ্কা কেটেছে, স্বাভাবিক হচ্ছে উপকূল

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৬ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কেটেছে বাগেরহাটবাসীর। জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় বহু মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। সরকারি হিসাবে জেলার ৩৪৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিলেন ৭৩ হাজার ২০০ মানুষ। তবে খুব বেশি আঘাত না হেনেই বাগেরহাটের উপকূল অতিক্রম করে ঝড়টি।

ভোর হতেই আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষেরা অনেকটা স্বস্তির সঙ্গে ফিরে গেছেন নিজ বাড়িতে। বাগেরহাটের আকাশে দেখা দিয়েছে সূর্য।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার প্রায় সব এলাকার আবহাওয়া রোদ্রউজ্জল হতে শুরু করে। স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। তবে সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভারী বর্ষণ ও ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়িও।

শরণখোলা উপজেলা সদরের ফায়েল খায়ের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকা জিলবুনিয়া গ্রামের অনিল ঋষি বলেন, ঘরের অবস্থা ভালো ছিল না। তাই রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম। ছেলে-মেয়ে নিয়ে শুধু মুড়ি ও চানাচুর খেয়ে রাত কাটিয়েছি। শুনেছিলাম আশ্রায়ন কেন্দ্রে ভালো খাবার দেওয়া হবে, কিছুই পাইনি।

আবুল হোসেন হাওলাদার নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, বউ-বাচ্চা নিয়ে আসছিলাম। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। খাবার খেয়েছি না খাওয়ার মতো। তারপরও সরকারি জায়গায় নিরাপদে থাকতে পেরেছি তাতেই আমরা খুশি।

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকার ফরিদ উদ্দীন বলেন, রাতে অনেকটা দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। মাঝরাতে আঘাত হানে কী না। তবে সকাল থেকেই রোদ উঠেছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

রামপাল উপজেলার চাকশ্রী এলাকার স্বেচ্ছাসেবক আবু তালেব জানান, সিত্রাং ধেয়ে আসার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা স্থানীয়ভাবে মানুষকে সতর্ক করেছি। আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষকে আসার অনুরোধ জানিয়েছি। অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জেনেছি ঝড় চলে গেলেও জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, উপজেলার সাউথখাল, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও ধানসাগর ইউনিয়নে অনেক স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছ। বেশকিছু কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আমরা সব মিলিয়ে চেষ্টা করেছি মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার। উপজেলার কোথাও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আজিজুর রহমান বলেন, জেলার ৩৪৪ আশ্রয় কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ২০০ মানুষ। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে আমরা কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন তিনি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। ফলে সব সমুদ্রবন্দর থেকে বিপৎসংকেত নামানো হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....