সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

চারঘাটে মাঠজুড়ে দুলছে আমন ধানের শীষ

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৪ দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট: উত্তরবঙ্গের সুপরিচিত নাম রাজশাহী চারঘাট উপজেলা। বর্তমানে উপজেলার যেদিকে তাকাই চোখ যায় যতদূর শুধু দুলছে আমন ধানের শীষ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে আমন ধান।

জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবছর আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষককে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসেও ছিলনা তেমন আকাশের বৃষ্টির দেখা। যার জন্য সঠিক সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেনি প্রায় কৃষক। তবে অসময়ে হলেও বাদ পড়েনি আমন ধান চাষ করতে কোন কৃষক। আর যারা আমনের শুরুতে ডিপ মর্টারের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করছেন তাদের প্রায় জমিতে আগে ধানের শীষ গজাতে শুরু করলেও এখন পুরো মাঠজুড়ে একসাথে বের হতে শুরু করেছে আমন ধানের শীষ। ফলে কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।

উপজেলার বিভিন্ন আমনের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কমবেশি প্রায় সব কৃষকের কষ্টে অর্জিত আমন ধানের শীষ বেরিয়ে থোকা থোকা হয়ে দুলছে। যদি আকাশের কোন দূর্যোগ বালাই না হয় তাহলে সপ্তাহ দু-একের মধ্যে আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে পড়বে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫২১৫। ও ৪৯৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান লাগানো হয়েছে। তবে যদি আকাশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে আমনের ফলনও ভালো হওয়ার আশাবাদী কৃষকরা।

চারঘাট উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের ঝিঁকরা এলাকায় হিজবুত তাওহীদের স্বদেশ কৃষি খামারের পরিচালক, নূরনবী হযরত, (বারী ) তিনি বলেন, আমরা মোট ১৮ বিঘা জমিতে আমন ধান করেছি। এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা এতে করে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০হাজার টাকা করে। তিনি বলেন, ধান উঠা পর্যন্ত বিঘা প্রতি আরো খরচ হবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মতো। এতে করে একেক বিঘা আমন ধান কাটা পর্যন্ত মোট খরচ হবে ১০ থেকে ১২ হাজার করে টাকা।

চারঘাট পৌর এলাকার মেরামতপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল বলেন, অন্যবছরের তুলনায় এবছর আমন চাষের জন্য কৃষককে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। একেতো আমন রোপণের সঠিক সময়ে বৃষ্টি ছিলনা তার ভিতরে সার পটাশের ব্যাপক সংকট ছিলো। তার পরেও আল্লাহর রহমতে খুব ভালো হয়েছে আমন ধান চাষ। আশা করা যাচ্ছে সপ্তাহ দু-এক দিন পর থেকে আমন ধান কাটা শুরু হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার জানান, গত বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৫০ এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ৫২১৫ আমাদের আছে, বর্তমানে আকাশের আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে রয়েছে, ইতিমধ্যে আমন ধানের শীষ বেরিয়ে পাক ধরতে শুরু করেছে। আমনের এই একটি আবাদ কৃষকরা স্বল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি কোন দূর্যোগ বালাই না হয় তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হয়ে থাকে। কৃষকের আমন ধান চাষে কোন রোগ বালাই না হয় সেজন্য প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে থেকে তদারকি অব্যাহত রাখা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....