শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

উত্তরবঙ্গের ভোজন রসিকদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী ‘কালাই রুটি’

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ৭০ দেখেছেন

সাদিক উল ইসলাম: কালাই রুটি উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। এ অঞ্চলে মাছ-ভাতের মতোই বহুল প্রচলিত একটি খাবার কালাই রুটি। মরিচ বাটা, পেঁয়াজ কুঁচি ও সরিষার তেল দিয়ে বা পোড়া বেগুনভর্তার সঙ্গে গরম গরম কালাই রুটির প্রসঙ্গ তুললেই যেন জিভে জল এসে যায়।

এই রুটির উৎস চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মার চরাঞ্চলে। পদ্মার পলিমাটি মাসকলাই চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, তাই এ কারণে কালাই রুটি ছিল পদ্মার চরের মানুষের সকালের নাশতা। গ্রামের লোকেরা ভোরে কাজে যাওয়ার সময় কালাই রুটি কাপড়ে মুড়িয়ে পরম যত্নে নিয়ে যেতো। সেই কালাই রুটির জনপ্রিয়তা এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়িয়ে পুরো উত্তরবঙ্গেই।

আগে শীতকালে এই রুটি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এখন বছর জুড়েই খেতে দেখা যায় সকলকে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই রুটি চরাঞ্চল থেকে শহরের ফুটপাত হয়ে অভিজাত রেস্তোরায় ও ঠাঁই পেয়েছে।

কালাই রুটির কারিগর সাইফুল রহমান বলেন, স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু কালাই রুটির ব্যবসায় তার বর্তমান মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ টাকা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ২০০ থেকে ২৫০ পিস কালাই রুটি বিক্রি হয়। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতন ও রুটির উপকরণ বাদে যা লাভ থাকে, তাতে ছেলেমেয়ের লেখাপড়াসহ স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চলে যায়।

দিন দিন বাড়ছে কালাই ডালের চাহিদা ও দাম। আগের মতো কম দামে কালাইয়ের ডাল পাওয়া যায় না। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও দামের কারণে কালাই রুটিতেও এখন ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। মেশানো হচ্ছে কালি কলাই আর মুগডাল। তাই তিনি কলাই রুটির আসল স্বাদ অক্ষুন্ন রাখতে বাজার থেকে কালাই কিনে রোদে শুকিয়ে মেশিনে ভাঙিয়ে আটা সংগ্রহ করেন।

রাজশাহী অঞ্চলে কালাই রুটি খায়নি এমন মানুষ হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। তাই এই অঞ্চলের সর্বত্রই কালাই রুটি ভোজন রসিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এই রুটি বানানো খুব একটা সহজ নয়। মাসকলাই ও আতপ চালের গুঁড়ার সঙ্গে স্বাদমতো লবণ ও পানি মিশিয়ে তৈরি খামিরের আটার গোল্লা বানিয়ে হাতে টিপে টিপে দুই হাতের তালুর চাপে ঘুরিয়ে কালাই রুটি বানাতে হয়।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ রুটির চেয়ে কালাই রুটি অধিক পুরু ও বড় আকৃতির হয়। এই রুটি মাটির তাওয়ায় সেঁকে বাদামি রঙের হলে নামিয়ে পরিবেশন করতে হয়। গরম-গরম কালাই রুটি মরিচ বাটা, পেঁয়াজ কুচি ও সরিষার তেল দিয়ে বা পোড়া বেগুন-ভর্তা, ভুনা হাঁস, মুরগি, গরুর মাংস এবং গরুর ভুঁড়ি (বট) দিয়ে দিয়ে খাওয়া হয়।

রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিটি কালাই রুটির দাম গড়ে বিশ থেকে পঁচিশ টাকা। অর্ডারে তৈরি স্পেশাল কালাই রুটি সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ টাকা, সঙ্গে কাঁচামরিচ বা ধনেপাতা বাটা ও পেঁয়াজ কুচি বিনামূল্যে। পোড়া বেগুন-ভর্তার দাম পাঁচ থেকে দশ টাকা।

সাকিল পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবার পরিজনদের নিয়ে এখানে রুটি খেতে আসি। কালাই রুটি আমাদের রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....