শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

চারঘাটে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাছিরা

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫০ দেখেছেন

উম্মে সালমা: শরৎকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতিতে এসেছে হেমন্ত। বৈচিত্র্যপূর্ণ এই ছয় ঋতুর বাংলাদেশে এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। উঁকি দিচ্ছে শীত।

শীতকালের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করে খেজুরের রস। এসময় প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ পরিষ্কার করার কাজে এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তেমনই চিত্র দেখা গেছে রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার প্রতিটি গ্রামে।

হিমেল বাতাস আর মিষ্টি খেজুর রসের ঘ্রাণ যেন সকলকে স্মরণ করিয়ে দেয় শীতের বার্তা। কাক ডাকা ভোরে রস সংগ্রহ ও সন্ধ্যায় চলছে গাছ পরিচর্যার কাজ।

আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি গুড় তৈরির পর্ব শুরু হবে এবং তা চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুরের গুড় আর চালের গুড়া দিয়ে শুরু হবে পিঠাপুলির আয়োজন।

সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাঁড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ।

কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়।

এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। এক সময় সন্ধ্যাকালীন সময়ে গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো।

রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত সে সময়ে। রস জ্বাল দিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালী তৈরি করতেন। এই ঘ্রাণে চারিদিক ম ম করতো।

এ গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। এটাই তার বৈশিষ্ট্য। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুরর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরী হয়।

এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, কালের বিবর্তনে বন বিভাগের নজরদারী না থাকায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ এখন উপজেলা জুড়ে বিলুপ্তির পথে।

গাছি সফি উদ্দিন জানান, আগে অনেক খেজুর গাছ থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা কমে গেছে। এই কাজ করে সংসার ভালো ভাবে চলে না। কিন্তু বাবা-দাদার আমল থেকে এই কাজ তারা করে আসছেন যার ফলে এই পেশা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। চাহিদা মত খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরূপ গুড় তৈরি করতে পারি না। যেভাবে খেজুর গাছ কাটা হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যেই এই এলাকায় আর আমাদের ব্যবসা হবে না। বর্তমান বাজারে আখের গুড় চিনি যে মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে তার চেয়ে মানসম্পন্ন খেজুরের গুড়ের দাম এবছর কিছুটা বেশি হবে এমনটাই আশা করছেন গাছিরা। শীত একটু বেশি পড়তে শুরু করলে আত্মীয়-স্বজন আনা নেয়া ও পিঠা-পুলির উৎসবে খেজুর গুড়ের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সে সময় আমাদের লাভ একটু বেশি হয়। যে পরিমাণে শ্রম দিতে হয় সে পরিমাণে আমরা লাভ করতে পারি না। তবুও পেশাগত কারণে চালিয়ে যাচ্ছি এই ব্যবসা।

গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এ জন্য মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

এদিকে উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, খেজুর গাছ আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সাহিত্য তথা জীবনধারায় মিশে আছে। এই ঐতিহ্যকে যে কোন মূল্যে আমাদের রক্ষা করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....