শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

বিয়ের দাবিতে তানোরে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া প্রেমিকার অনশন

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ৪৫ দেখেছেন

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএসসি ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়া এক ছাত্রী বিয়ের দাবিতে মান্দা উপজেলার পারইটুনি গ্রামে প্রেমিক বদলগাছি উপজেলা যুব উন্নয়নের সহকারী অফিসার মিঠন মন্ডলের বাড়িতে অনশনে বসেন। গত ১লা অক্টোবর থেকে টানা চারদিন চলে অনশন। দূর্গা পূজা চলাকালীন এবং মিঠন সরকারী চাকুরীজীবী ও প্রভাবশালী হওয়ায় মান্দার প্রশাসন দুই দিনের মধ্যে সমাধানের কথা বলে অনশনকারীকে নিজ বাড়ি তানোরে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ভিকটিমের।

এঘটনা নিয়ে মেয়ে পক্ষ ও মিঠনের দুলাভাই কামারগাঁ ইউপির কচুয়া প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিখিল ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যানদের নিয়ে মোটা টাকায় রফাদফা করার জন্য ভিকটিমকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচুর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু প্রেমিকা ভিকটিমের একটাই কথা, বিয়ে ছাড়া আমি কিছুই বুঝি না। এমনকি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকাও অফার করা হয়েছে। কিন্তু প্রেমিকার কথা আমার ইজ্জত সম্মান ও নিজের স্ত্রীর মত ব্যবহার করেছে, টাকার বিনিময়ে যদি ফেরত হয় তাহলে দিন। ফলে ঘটনাটি মান্দা ও তানোর টক অব দ্যা ডে-তে পরিনত হয়েছে।

এদিকে সরকারী চাকুরীজীবী মিঠনকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মান্দা থানা পুলিশ বলেও অভিযোগ ভিকটিমের। কিন্তু প্রেমিক মিঠুন আর ওই ছাত্রীকে পাত্তা দিচ্ছি না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে চলতি মাসের ১ লা অক্টোবর থেকে প্রেমিক মিঠন মন্ডলের মান্দা উপজেলার পারইটুনি গ্রামের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন। কিন্তু শারদীয় দূর্গা পূজার জন্য প্রশাসন প্রেমিক মিঠন মন্ডলকে দুই দিনের মধ্যে সমাধান না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে প্রেমিকাকে নিজ এলাকা তানোরে পাঠান। গত বৃহস্পতিবার শেষ দিনে মিঠুনের দোলাভাই কামারগাঁ ইউপি কচুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

তবে প্রেমিকা জানান, ছেলে আমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু তার দুলাভাই নিখিল বাগড়া দিচ্ছে। আমাকে অনেক টাকার অফার করা হয়েছে। আমি রাজি না, আমার সম্মান নষ্ট হয়েছে আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। শুধু নিখিলের কুপরামর্শে বিয়ে হয়নি। আমি অনশনে থাকা অবস্থায় মান্দার ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশের লোকজন মিঠনকে দু দিনের সময় দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সেটা শেষ হয়েছে, তাও আমি বিচার পাচ্ছিনা। যদি তারা না পারবে তাহলে আমাকে কেন অনশন থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হল। আমি অসহায় নারী বলে কোন বিচার পাব না, নাকি গরীবের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।

তবে মাস্টার নিখিল জানান ৬ মাস থেকে তাদের সম্পর্ক। মেয়ে যখন অনশন করেন, তখন প্রশাসন বলেছিল নাম মাত্র বিয়ে করে তিন চার মাস পর ডিভোর্স দিয়ে দিবেন। মানে অসহায় মহিলা তাদের ইজ্জতের মূল্য নাই। একজন সরকারী দপ্তরে চাকুরী করে কিভাবে তিনি বহাল থাকেন।

জানা গেছে, তানোর পৌর সদরে জৈনক মৃত ব্যক্তির কন্যা রাজশাহী শহরে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা অবস্থায় ইন্টারনেটে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মান্দা উপজেলার পারইটুনি গ্রামের বিমল মন্ডলের পুত্র মিঠুন মন্ডলের সাথে। বিগত প্রায় এক বছরের প্রেমের সম্পর্ক এতই গভীর হয়ে পড়ে বিয়ের কথা বলে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন প্রেমিকা। শুধু তাই না মেসের খরচ পড়ালেখার খরচ বহন করে এবং সবাই জানে কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে হবে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ফোনে কোন যোগাযোগ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ওই প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে অনশন শুরু করেন। যা চলে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু প্রেমিক মিঠন লাপাত্তা ছিলেন।

প্রেমিকা শিক্ষার্থী জানান, অনশন করা অবস্থায় ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশের লোকজন পূজার কথা বলে এবং তার পরিবারকে ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের মধ্যে সমাধান না করে নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু নিখিল কিছুই হতে দিচ্ছে না।

মিঠন মন্ডলের কর্মস্থল নওগাঁ বদলগাছি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, ঘটনা শুনেছি। আমরা চরমভাবে বিব্রত। তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মিঠনের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে যে নম্বর আছে সেটাতে ঢুকছে না তার দুলাভায়ের কাছে পাবেন।

মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমানের সরকারী মোবাইলে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেন নি।

নওগাঁ যুব উন্নয়নের উপপরিচালক জাবেদ ইকবাল জানান, লোকমুখে শুনেছি, অভিযোগ না পেলে কিভাবে ব্যবস্থা নিব? মান্দার ইউএনও এবং ওসির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শুনেছি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বাক্কার সিদ্দিক জানান, পূজার জন্য দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কারন ছেলে মেয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের। এজন্য সময়টা দেওয়া হয়েছিল। যদি সমাধান না হয় মেয়ে অভিযোগ করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

নওগাঁ পুলিশ সুপার (এসপি) রাসেদুল হকের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে ও থানার ওসি মোবাইল রিসিভ না করার বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি জানান, পুনরায় ওসিকে ফোন দেন, কেন রিসিভ করবে না, আর ঘটনা অজানা।

পুনরায় মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমানকে ফোন দেওয়া হলে রিসিভ করেননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর.....