বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

অন্যরকম প্রেমের গল্পে ‘ফিদা’

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২
  • ২৩ দেখেছেন

নাটকের গল্প জানিয়ে পরিচালক হাসিব হোসেন রাখী বলেন, এটি অন্যরকম প্রেমের গল্প। সমাজটাই এমন যে জোর করে কিছু হয় না। যে যার ইচ্ছে অনুযায়ী তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নাদের চৌধুরী তার ছেলেকে নিয়ে নানা টেনশনে থাকেন। তার এই যুবক ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাই অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে একরকম জোর করেই ছেলেকে মানসিক ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসেন।

বাবার টেনশন কখন তার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ছেলে পালিয়ে যায়। বাবা ওয়াশ রুমে গেলে ছেলে লবিতে গিয়ে সিগারেট ধরায়। একটি মেয়ে এ নিয়ে অপমান করে তাকে। মেয়েটিকে দেখে ছেলেটি ফিদা হয়ে যায়। তাকিয়ে থাকে ফ্যাল ফ্যাল করে। বাবাকে মানসিক হাসপাতালে রেখেই মেয়েটির পিছু নেয় সে। বাবার সাথে রিকশায় ওঠে মেয়েটি। ছেলেটিও পিছু নেয় মেয়েটির।

একটি ইউনিভার্সিটির গেটে গিয়ে থামে মেয়েটির রিকশা। ছেলেটি মেয়ের জন্য সারাদিন ব্যয় করে। মেয়েটির বাসাসহ সবকিছু চিনে নিয়ে তারপর বাসায় ফেরে ছেলেটি। বাসায় ফিরেই বাবার রোষানলে পড়ে সে। মা-বাবার কোনো কথাই তার কানে ঢোকে না। তার কল্পনায় শুধু মেয়েটি। এরপর বাবা-মাকে বুঝিয়ে মেয়েটির ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। ক্লাসে গিয়ে সারাক্ষণ সেই মেয়েটির দিকেই তাকিয়ে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পারেন ক্লাস টিচার। ছেলেটিকে দাঁড়াতে বলেন। যে বিষয়টি এতক্ষণ তিনি বোঝালেন তা বলতে বলেন।

ছেলেটি বলে, কিছুই বলতে পারব না স্যার! কারণ আমার মাথায় কোনো পড়াশোনাই ঢুকে না। সবাই হেসে ওঠে। এরপর যে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ছিল ছেলেটি, সেই মেয়েটিকে বলতে বলে। মেয়েটি সাবলীলভাবে স্যারের পড়া একটানা বলে যায়। স্যার খুশি হন। ছেলেটিরও মেয়েটিকে আরো ভালো লাগে। ক্লাস শেষে  মেয়েটিকে ডিসটার্ব করে ছেলেটি। আবদার করে করে মেয়েটি যেন পড়াশোনার ব্যাপারে তাকে হেল্প করে। মেয়েটি এ বিষয়ে কোনো স্যারের হেল্প নিতে বললে ছেলেটি বলে কোনো স্যারের পড়াই তার মাথায় ঢোকে না।

ক্লাসে মেয়েটি যেভাবে পড়া বলেছে তা তার মাথায় ঢুকেছে। সে যেভাবে বলেছে সেভাবেই হুবহু বলতে পারবে ছেলেটি। মেয়েটি তাকে হেল্প করবে বলে কথা দেয়। এভাবেই এগিয়ে চলে তাদের সময়। মেয়েটিকে সব সময় চোখে চোখে রাখে ছেলেটি। মেয়েটিকে তার ভালো লাগার কথাও বলে। এরই মধ্যে বাবা-মাকে অবাক করে দিয়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে ছেলেটি। কিন্তু বাবা-মা বিশ্বাস করে না।

বছরের পর বছর একই ক্লাসে থাকা ছেলেটি কীভাবে এত ভালো রেজাল্ট করতে পারে? যে কারণে বাবা-মা বিশ্বাস করতে পারে না। ছেলেটি বলে একটি মেয়ের জন্যই তা সম্ভব হয়েছে।

এমন সময় একটি ফোন আসে ছেলেটির সেল ফোনে। পাগলের মতো দৌড়ে বেরিয়ে যায় ছেলেটি। খালি পায়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়ে একসময় এসে হাজির হয় মেয়েটির বাসায়। এসে দেখে বাড়ির উঠানে পড়ে আছে সাদা কাপড়ে মোড়ানো মেয়েটির লাশ। পাশেই মেয়েটির বাবা মা বাকরুদ্ধ। উপস্থিত প্রতিবেশী অনেকেই। লাশ জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে ছেলেটি। মেয়েটি লাশ হলো কীভাবে? কী সেই রহস্য? তাই বলা হয়েছে ফিদা নাটকে।

পরিচালক রাখী বলেন, ‘নাটকটি দর্শক-হৃদয়ে দাগ কাটবে বলে আমার বিশ্বাস।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর.....