শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়ায় এশিয়ান বার্তার প্রতিনিধি সম্মেলন বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার ১৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দূর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহীতে এমপি বাদশার আর্থিক অনুদান সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ: মাসুদ হোসেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের ৫ টি ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা  তানোরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাসিকের গঠিত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  এলআইইউপিসি প্রকল্পের সিটি লেভেল মাল্টিসেক্টরাল নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভা  রাসিক মেয়রের সাথে টেনিস বিজয়ী খেলোয়াড়দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকুরীর দক্ষতা এবং ইতিবাচক মনোভাব বিষয়ক সেমিনার 

রাজশাহী অঞ্চলে ভরা মৌসুমে সারের তীব্র সংকট

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২
  • ৩০ দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি সারের তীব্র সংকট চলছে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। চলমান আমন আবাদের ভরা মৌসুমে এমওপির খোঁজে হন্যে হয়ে ছুটছেন কৃষকরা। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর সার ডিলাররা বলছেন বরাদ্দকৃত সার নেই সরকারি গুদামে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গুদাম কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার সময়মতো সার পরিবহণ না করায় অঞ্চলজুড়ে সার সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলাররা টাকা জমা দিলেও বরাদ্দকৃত সার পাচ্ছেন না। সারের জন্য তারা গুদামে গুদামে ঘুরছেন। নওগাঁ জেলার আপৎকালীন সংকট কাটাতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুরোধে বগুড়ার সান্তাহার বাফার ১ হাজার ৫০০ টন এমওপি সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ডিলাররা অভিযোগে আরও বলেছেন, দানাদার সার এমওপির পুরোটাই আমদানি হয় কানাডা, রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে। আমদানি করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদাররা। দীর্ঘদিন ধরে একই ঠিকাদার সিন্ডিকেট সার আমদানির টেন্ডার পেয়ে আসছে। সার পরিবহণেও একই সিন্ডিকেট অনেক বছর ধরে বহাল আছে। সার আমদানি করা ও তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা সরকারের গুদামে পৌঁছে দেওয়া তাদের দায়িত্ব। কিন্তু গত ৩ মাস ধরে এমওপি সরবরাহে তীব্র সংকট চললেও মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে এমওপি না পেয়ে কৃষকদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে ফসল আবাদ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলায় ৪ হাজার ৪৩৩ টন এমওপি সারের বরাদ্দ হয়। আগস্টে বরাদ্দ হয়েছে ৪ হাজার ৩১৫ টন। এই সার কৃষক পর্যায়ে ৭৫০ টাকা করে বিক্রির জন্য সরকার মূল্য নির্ধারণ করে। ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশান রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম জানান, জুলাইয়ে রাজশাহী জেলায় ৯৪৭ টন এমওপি বরাদ্দ হয়। কিন্তু এর মধ্যে এখনো ৩৫০ টন এমওপি পায়নি ডিলাররা। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জুলাইয়ে বরাদ্দকৃত এমওপির পুরোটা সরবরাহ না পাওয়া গেলেও চলতি আগস্টে বরাদ্দ কমিয়ে ৮০০ টন করা হয়েছে।

এদিকে বিএডিসির সার গুদামের একজন কর্মকর্তা জানান, জুলাইয়ে এমওপির পুরো বরাদ্দ এখনো ডিলাররা পাননি। পরিবহণ ঠিকাদার সার সরবরাহ করতে না পারায় আমরাও ডিলারদের দিতে পারিনি। আগস্টের বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মাসের বরাদ্দের ২৫০ টন সার ডিলাররা পেয়েছেন। এমওপি পেতে ডিলাররা গুদামে আসছেন কিন্তু সরবরাহ না থাকায় সার দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা পরিবহণ ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার সরবরাহের জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু তারা অজ্ঞাত কারণে এমওপি দিতে পারছে না।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জন্য জুলাইয়ের এমওপির বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩৬ টন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি এমওপি সরবরাহ দিতে পারেনি বিএডিসি। বিএডিসির রহনপুর গুদামের ইনচার্জ মাহাতাব হোসেন জানান, পরিবহণ ঠিকাদাররা এমওপির সরবরাহ দিতে পারছে না। সরবরাহ না পেয়ে আমরা নাস্তানাবুদ হচ্ছি। এ প্রসঙ্গে জানতে পরিবহণ ঠিকাদার পোটন ট্রেডার্সের নগরবাড়ী ডিপোর ম্যানেজার সোহরাব হোসেন জানান, তারা রাজশাহী অঞ্চলে বিএডিসির সব গুদামে সময়মতো সার সরবরাহ করে যাচ্ছেন। সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তাহলে গুদামে গিয়ে ডিলাররা সার পাচ্ছেন না কেন জানতে চাইলে পোটন ট্রেডার্সের এই কর্মকর্র্তা আরও বলেন, সমস্যা কোথায় আমরা বলতে পারছি না। যদিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি আকবর আলী পোটন ট্রেডার্সের কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, পরিবহণ ঠিকাদারের অবহেলাতেই এমওপি ডিলাররা পাচ্ছে না।

ফলে কৃষকদের সার পেতে সমস্যা হচ্ছে। এদিকে নওগাঁ জেলায় জুলাই মাসে ১ হাজার ৭৮৩ টন এমওপির বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এখনো জুলাই মাসের বরাদ্দের অর্ধেক সারও পাননি ডিলাররা। অন্যদিকে চলতি আগস্ট মাসে নওগাঁতে ১ হাজার ৭৯৬ টন এমওপির বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আগস্টের কোনো সার পাননি ডিলাররা। নওগাঁ জেলার সার ডিলার সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, নওগাঁ হচ্ছে দেশের সর্বাধিক আমন আবাদের জেলা। কৃষকরা সারের জন্য হণ্যে হয়ে ঘুরছে দোকানে দোকানে। এমওপি সংকটের মূল কারণ হচ্ছে পরিবহণ ঠিকাদারের গাফিলতি। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে নাটোর জেলাতেও। জুলাইতে নাটোর জেলায় এমওপির বরাদ্দ ছিল ৬৬৭ টন। এই জেলায় আগস্টে ৮৬৮ টন বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু আগের মাসের অর্ধেক সার এখনো পাননি ডিলাররা।

রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোতে এমওপি সরবরাহে অচলাবস্থা ও সংকট প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামছুল ওয়াদুদ যুগান্তরকে বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোতে এমওপি সার সরবরাহে কিছুটা সমস্যা আছে। তা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছি। ঠিকাদারের গাফলতি থাকলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতেও আমরা তাগিদ দিয়েছি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর.....