বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

ভারতের পক্ষে এই সরকার টিকিয়ে রাখা সম্ভব না: গয়েশ্বর

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২
  • ১৯ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্কঃ ভারতের পক্ষে এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকটে বাংলাদেশ, নিয়ন্ত্রণহীন দ্রব্যমূল্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেওয়া বক্তব্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি ভারত সরকারকে বলেছেন, তারা যেন শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, তা-ই করে। এই বক্তব্যের সমালোচনা করে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সভায় গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা যদি নির্বাচন না করি, এই সরকারকে কে রাখবে? ভারত! মোটেই সম্ভব না।’

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যা বলে তা করে না। শেখ হাসিনা বলেন, সৎ; নির্লোভ। কিন্তু তার পরদিনই কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটে। দেশের জনগণ এক যুগ ধরে অধিকারবিহীন। তারা আজ শোষিত। এই শোষণ কীভাবে হচ্ছে? জনগণের টাকা লুটপাট করে হচ্ছে। এই যে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, এসব টাকা জনগণের।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই। যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না, তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। সরকার বলছে, আমরা ষড়যন্ত্র করছি। সরকারকে বিদায় দেওয়া ষড়যন্ত্র নয়, এটি দেশের মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এ দেশ কোনো সেমিনারে স্বাধীন হয়নি, আদালতের রায়ে স্বাধীন হয়নি। স্বাধীন হয়েছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। সুতরাং, রাজনৈতিক যত সিদ্ধান্ত, তা জনগণ নেবে। আদালত নিতে পারে না। মানুষ কখন সংগ্রাম করে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে? যখন তারা বুঝতে পারে যে তারা শোষিত হচ্ছে।’

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘বর্তমান অর্থমন্ত্রী আইন করেছেন বিদেশ থেকে অবৈধ টাকা আনার জন্য। আইন করে কখনো টাকা আনা যায় আমি শুনিনি। দেশের ব্যাংক, সরকার; একমাত্র তারা চাইলে টাকা ফেরত আনা সম্ভব। ধনী হওয়া অপরাধ না। সৎ পথে ধনী হলে সমস্যা নেই। কিন্তু এই টাকা অবৈধ।’

নিজ দলের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিনা অপরাধে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেল দেওয়া হয়েছে। আর কী করার বাকি আছে? তাহলে আমাদের কি গা বাঁচিয়ে কথা বললে চলবে? সুতরাং ভাগ্য যেহেতু আমাদের সবার সমান, তাই ভাগ্য পরিবর্তনেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহম্মেদ আজম খান বলেন, ‘এবার শেষ রক্ষা হবে না—এটা সরকার বুঝে ফেলেছে। তাই তারা আবোল-তাবোল বলতেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে আজম খান বলেন, “আমাদের এক আহাম্মক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, যিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। (গতকাল) বৃহস্পতিবার বললেন, ‘ভারত সরকারকে বলেছি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।’ অর্থাৎ, মানুষের ওপর তাদের আস্থা নেই। দুই দিন আগে এই আহাম্মক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘আমরা বেহেশতে আছি।’ তিনি একদম ঠিক বলেছেন। তাঁরা বেহেশতেই আছেন। কষ্টে আছে সাধারণ মানুষ।”

বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মাদ সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলাম।

সুত্রঃ আজকের পত্রিকা

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর.....