মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক তূর্য চারঘাটে নিজ গায়ে আগুন লাগিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা রাজশাহীতে চলন্ত বাসে ঢুকে গেল বিদ্যুতের খুঁটি নগরায়নের নয়া মহামারি ‘শব্দদূষণ’ রোধের দাবি তরুণদের আরইউজে সম্পাদকের ওপর হামলায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা শাখার নিন্দা বানেশ্বরে নাদের আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির হাতাহাতি ওয়ালটনের কল সেন্টারে চাকরির সুযোগ রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ ইউএনও দুর্গাপুরের সোহেল রানা পুঠিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন: সভাপতি আরিফ, সম্পাদক রুবেল তানোরে রংতুলির কাজ শেষ, থানে তোলার অপেক্ষায় প্রতিমা 

গাজীপুরে প্রাইভেট কার থেকে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২
  • ১৭ দেখেছেন

প্রসঙ্গ ডেস্কঃ গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার বগারটেক এলাকায় নিজেদের প্রাইভেট কার থেকে এক শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

মৃতরা হলেন টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান মামুন (৫১) ও তাঁর স্ত্রী আমজাদ আলী স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. মাহমুদা আক্তার জলি (৩৫)। এ কে এম জিয়াউর রহমান মামুন ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার দড়ি কাঁঠাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তাঁরা গাজীপুর মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের গাছা থানাধীন কামারজুরি এলাকায় বসবাস করতেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, বুধবার গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী এলাকার শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী স্কুল শেষে মহানগরীর গাছা এলাকায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাঁরা রাতে বাসায় ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে গাছা থানা এলাকায় নিজেদের প্রাইভেট কারের ভেতরে স্টিয়ারিংয়ে প্রধান শিক্ষক ও পাশে তাঁর স্ত্রীকে নিস্তেজ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওই দম্পতির ছেলে মো. মিরাজ বলেন, ‘অন্যান্য দিনে মতো গত বুধবার সকালে প্রাইভেট কার নিয়ে আব্বা-মা স্কুলের উদ্দেশে বের হন। পরে স্কুলের কাজ শেষে সন্ধ্যায় তাঁরা একসঙ্গে স্কুল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাঁরা আর বাসায় ফেরেননি। এরপর থেকে তাঁদের অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ ভোরের দিকে স্থানীয় বগারটেক এলাকা থেকে প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে তাঁদের নিস্তেজ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমার আব্বা চালকের আসনে ও পাশে মা বসা ছিলেন।’

কথা বলার একপর্যায়ে মিরাজ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার আব্বা ও মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মন্ত্রীর কাছে (স্থানীয় এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) আমার আব্বা-মা হত্যার বিচার চাই। ওনার (প্রতিমন্ত্রীর বাবা) পিতাও (শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার) আমার আব্বাকে অনেক পছন্দ করতেন। আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

জিয়াউর রহমান মামুনের ভগ্নিপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষবার তাঁদের সঙ্গে কথা হয়। তখন জানান, একসঙ্গে বাসার দিকে ফিরছেন তাঁরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় মাহমুদা আক্তার জলির কণ্ঠ খুব ভারী ও দুর্বল মনে হচ্ছিল। তারপর থেকে তাঁদের আর ফোনে পাওয়া যায়নি।’

মাহমুদা আক্তার জলির বোন আহমিদা আক্তার লিমা বলেন, ‘তাঁরা (শিক্ষক দম্পতি) বাসায় না ফেরায় আমরা রাতে অনেক স্থানে খোঁজাখুঁজি করি। ভোরে জানতে পারি তাঁদের প্রাইভেট কার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রথমে তাঁদের তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরা হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁদের খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন।’

এদিকে জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) ইলতুৎমিশ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

সুত্রঃ আজকের পত্রিকা

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর.....