মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক তূর্য চারঘাটে নিজ গায়ে আগুন লাগিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা রাজশাহীতে চলন্ত বাসে ঢুকে গেল বিদ্যুতের খুঁটি নগরায়নের নয়া মহামারি ‘শব্দদূষণ’ রোধের দাবি তরুণদের আরইউজে সম্পাদকের ওপর হামলায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা শাখার নিন্দা বানেশ্বরে নাদের আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির হাতাহাতি ওয়ালটনের কল সেন্টারে চাকরির সুযোগ রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ ইউএনও দুর্গাপুরের সোহেল রানা পুঠিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন: সভাপতি আরিফ, সম্পাদক রুবেল তানোরে রংতুলির কাজ শেষ, থানে তোলার অপেক্ষায় প্রতিমা 

পথের খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি !

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২
  • ৮০ দেখেছেন

সামিয়া খন্দকার : শিক্ষা নগরী রাজশাহী। এই নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়তে আসেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। এই সকল শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নগরীর আনাচে-কানাচে গড়ে উঠছে নানা রকম স্ট্রীট ফুডের ব্যবসা। দামে কম ও সহজলভ্য হওয়ায় এ সকল স্ট্রিট ফুড দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সাধারণ জনগণ বিশেষ করে উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের কাছে।

কিন্তু এই সকল খাবারগুলো কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর পাশে, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে স্ট্রিট ফুড গুলোর স্টল বেশি দেখা যায়। এ সকল স্থানগুলো ঘুরে দেখা যায়, স্বল্প বিনিয়োগে ছোট্ট একটি ফুডকার্ট ও অল্প কিছু উপকরণ দিয়েই শুরু করা যায় এই ব্যবসা। তাই বেকারত্ব ঘুচাতে অনেকেই ঝুঁকছেন এই ব্যবসায়। এ সকল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়েই তারা খাবার তৈরি করে থাকেন। অথচ ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাস্তার পাশের এ সকল স্টল গুলোতে পাশ দিয়ে যানবাহন গেলেই খাবারে উড়ে পড়ে ধুলাবালি। এছাড়া ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের সস ও বিএসটিআই অনুমোদনহীন নানা পণ্য। আবার পোড়া তেলে ভাজা বিভিন্ন খাবারগুলোতেও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নগরীর জিরো পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, রেলগেট, ফায়ার সার্ভিস মোড়, সিএনবি মোড়, বিনোদপুর বাজার, তালাইমারি, লক্ষ্মীপুর মোড়, দড়িখরবোনা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, অলকার মোড়, ভদ্রা মোড়, নদীর পারগুলো ইত্যাদি জায়গায় এ সকল স্ট্রিট ফুড গুলোর ব্যবসা বেশি জমে উঠতে দেখা গেছে। এই বিস্তৃতি গত দুই বছর আগেও অনেক কম ছিল। ছোট ছোট ফুডকার্ট বা স্টল সাজিয়ে ব্যবসা করছেন এ সকল ব্যবসায়ীরা। ফুডকার্টে ব্যবসার জন্য নিতে হচ্ছে না কোন সরকারি অনুমোদন। যার কারণে এখন পর্যন্ত এর কোন পরিসংখ্যান বা তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নানারকম স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়াও অনেকের অভিযোগ, এ সকল ফুডকার্টগুলো অনেক সময় ফুটপাথের পাশে দাঁড় করানো হয়। যার ফলে যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় পথচারীদের। এছাড়াও নানারকম আবর্জনার ফলে রাস্তার পরিবেশ দূষণও হয়। তাই এ ধরনের ব্যবসা গুলোকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালায় আনার দাবি করছেন সচেতন মহল। নিউ মার্কেটে ফাস্টফুড খাবার খেতে আসা শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ বলেন, আমরা মোটামুটি সকলেই জানি এসকল খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তারপরও দামে কম হওয়ায় হালকা নাস্তার জন্য ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে অবসর সময় কাটানোর জন্য আমাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীই এসব স্ট্রিট ফুডের স্টল গুলোতে ভিড় করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চটপটি বিক্রেতা নাজিম হোসেন বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাবার তৈরি করে থাকি। এছাড়াও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি। খোলা জায়গায় খাবার রাখায় ধুলাবালি পরে কিনা এই প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগের চিকিৎসক মোঃ মারুফ আল হাসান বলেন, রাস্তার পাশের এ সকল খাবারগুলো ক্রমেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ধূলাতে থাকে ব্যাকটেরিয়া ও নানা রকম জীবাণু। এর ফলে ডায়রিয়া, বমি এসবের মতো রোগগুলো হতে পারে। বিভিন্ন রকম ফাস্টফুড আইটেমগুলো ফ্যাটি লিভার, পলিসিস্টিক ওভারি, ওবিসিটি ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই রোগগুলোতে বিশেষ করে আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। আবার এসব খাবারে ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের সস। এই সস তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ক্ষতিকারক রং যা শরীরে ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। তাই পূর্বের তুলনায় বর্তমানে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়াও খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত পোড়া তেলগুলো কিডনির নানারকম সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি কিডনি অকেজোও হয়ে যেতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর.....