মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক তূর্য চারঘাটে নিজ গায়ে আগুন লাগিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা রাজশাহীতে চলন্ত বাসে ঢুকে গেল বিদ্যুতের খুঁটি নগরায়নের নয়া মহামারি ‘শব্দদূষণ’ রোধের দাবি তরুণদের আরইউজে সম্পাদকের ওপর হামলায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা শাখার নিন্দা বানেশ্বরে নাদের আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির হাতাহাতি ওয়ালটনের কল সেন্টারে চাকরির সুযোগ রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ ইউএনও দুর্গাপুরের সোহেল রানা পুঠিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন: সভাপতি আরিফ, সম্পাদক রুবেল তানোরে রংতুলির কাজ শেষ, থানে তোলার অপেক্ষায় প্রতিমা 

ডেভিলস টাওয়ার ( দ্বিতীয় পাঠ )

রিপোর্টারের নাম
  • সময় : সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২
  • ৫৮ দেখেছেন
 ডেভিলস টাওয়ার সম্পর্কে অনেক ধরনের মতবাদ প্রচলিত আছে। স্থানীয়দের ভাষায়, ভাল্লুক থেকে বাঁচতে স্থানীয়রা একটা পাথরের ওপর উঠে এবং তাদের মহৎ আত্মার কাছে প্রার্থনা করে। মহৎ আত্মা তাদের প্রার্থনা শুনতে পায় এবং তাদের বাঁচাতে পাথরটিকে স্বর্গের দিকে প্রসারিত বা উঁচু করে দেয়। ভাল্লুকেরা তারপরও উঠতে চেষ্টা করলে ভাল্লুকের নখের আচরে টাওয়ারের গায়ে খাঁজকাটা আকৃতিতে পরিণত হয়। স্থানীয়দের নিকট এর নাম ভাল্লুকের পাহাড় বা আস্তানা বলেও পরিচিত। সায়ান ইন্ডিয়ানদের মতে, ভাল্লুকেরা ঐ অঞ্চলের সব মেয়েদের মেরে ফেলে, তাদের ভেতর বেঁচে যাওয়া দুটি মেয়ে নিজ বাসস্থানে ফিরে এসে ছেলেদের ঘটনাটি বলে। এরপর তারা তাদের ধর্মগুরুর মাধ্যমে জানতে পারে, ভাল্লুকের পায়ের নিচে আঘাত করতে পারলেই ভাল্লুকগুলোকে মারা সম্ভব। ছেলেরা বুদ্ধি করে ভাল্লুক গুলোকে চূড়ার কাছে নিয়ে যায় এবং ভাল্লুকগুলো ভাবে ছেলেগুলো চূড়ার উপরে রয়েছে। ভাল্লুকেরা চূড়ায় ওঠার জন্য বারবার চেষ্টা করতে থাকে ফলে চূড়ার গায়ে নখের আচর দেখা যায়। এক সময় ছেলেদের ছোড়া তীর ভাল্লুকের পায়ের খুব কাছে লাগে এবং ভাল্লুকেরা ভয়ে পালিয়ে যায়। এভাবে উৎপত্তি হয় এই চূড়ার। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আবার ভিন্ন। বিজ্ঞানীদের মতে, বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর উন্নতির সাথে সাথে ডেভিলস টাওয়ার নিয়ে এক আধুনিক তত্ত্বের জন্ম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ বিশ্বাস করে এই টাওয়ার বহির্জাগতিক শক্তির সৃষ্টি আর এলিয়েন স্পেস শিপ ল্যান্ডিং স্টেশন ছিল। ভৌগলিকবিদের মতে, ডেভিলস টাওয়ার আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ম্যাগমা বা লাভা সঞ্চিত হয়ে, টেকটনিক প্লেটের চাপে যখন রকি মাউন্টেনের উত্থান হয় তখন জমে যাওয়া এই ম্যাগমা খণ্ডটি উঠে আসে, পরে হাজার বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি, বাতাসের প্রভাবে মাটি খয়ে যায় এবং জমাট বাধা এই ম্যাগমার চূড়াটি দৃশ্যমান হয়। ১৯০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় সৌধে পরিণত হয় ডেভিলস টাওয়ার। কয়েক দশক ধরে এই ডেভিলস টাওয়ার মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সর্বপ্রথম এই পর্বতটি উইলিয়াম রজার্স এবং উইলার্ড রিপ্লি শীর্ষ বিজয় করেন। ডেভিলস টাওয়ার দেখতে দুর্গম মনে হলেও পাহাড়টি পর্বতারোহীদের পছন্দের জায়গা। ক্লাইম্বিং এর জন্য প্রতি বছর হাজারো মানুষ ছুটে আসে। এছাড়া এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করার মতো। তবে স্থানীয় ধর্মীয় নীতি-রীতি অনুযায়ী জুন মাসে আরোহণ বন্ধ থাকে। এর চূড়ায় কাঠবিড়ালি, ইঁদুর জাতীয় প্রাণী এবং নানান জাতের পাখির নিবাস। এছাড়াও পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক প্রজাতির প্রেইরি ডগও পাওয়া যায়। বিস্ময়কর জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বরাবরই একটু বেশি। তাইতো এই অদ্ভুত ডেভিলস টাওয়ার বা পাহাড় দেখার জন্য প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ পর্যটক হাজির হন।
লেখা- অর্ণব সাদিক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার.....

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর.....